বাংলাদেশে ভারতীয় ট্রাক চালক আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে পেট্রাপোল সীমান্তে বিক্ষোভ প্রদর্শন
https://parstoday.ir/bn/news/india-i101130-বাংলাদেশে_ভারতীয়_ট্রাক_চালক_আক্রান্ত_হওয়ার_প্রতিবাদে_পেট্রাপোল_সীমান্তে_বিক্ষোভ_প্রদর্শন
বাংলাদেশের বেনাপোলে হৃষীকেশ যাদব নামে ভারতীয় এক ট্রাক চালক আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ১৫:৩৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের বেনাপোলে হৃষীকেশ যাদব নামে ভারতীয় এক ট্রাক চালক আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে।

আজ (শনিবার) শ্রমিক সংগঠন, ক্লিয়ারিং এজেন্ট ও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হন।

গত (বৃহস্পতিবার) বেনাপোল স্থলবন্দরে ওই ট্রাক চালক অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। তিনি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক খালাসের জন্য ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে গিয়েছিলেন।          

এ প্রসঙ্গে আজ ‘পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রত্যেকদিন ভারতীয় ট্রাক চালকদের উপর  অত্যাচার চলছে। আমাদের এক্সপোর্টের মাল কাটাই হচ্ছে পোর্টের ভিতরে। এত সুসংহত পোর্ট বেনাপোলে, সেখানে নিরাপত্তার কোনও বালাই নেই! গত পরশুদিন সেখানে আমাদের এক ড্রাইভারকে চপার দিয়ে কোপানো হয়েছে। এজন্য তার কমপক্ষে ১৯/২০টা সেলাই পড়েছে। এর প্রতিবাদে ড্রাইভাররা আজকে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা ক্লিয়ারিং এজেন্টরা তাকে সমর্থন জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতীয় ট্রাক চালকের উপরে যে অত্যাচার, এর মূল কারণ, ট্রাক চালকরা এক্সপোর্টের অনেক মূল্যবান পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে যায়। একটা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির গার্মেন্টস নিয়ে যাচ্ছিল ভারতীয় ট্রাক। সেটাকে ওরা চুরি করে বা ডাকাতি করে নেবে চালকের সামনেই। তাতে বাধা দিতেই আক্রান্ত হয় ওই ট্রাক চালক। ওই পোর্টে নিরাপত্তা নেই, যে পোর্টের আধিকারিকরা দায়িত্ব নেয় না। এবং ভারতীয় স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে ‘এলপিআই’ আমাদেরকে বাংলাদেশে পাঠায় তাদেরও কোনও দায়িত্ব নেই! ছোটোখাটো বা বড় কোনও ঘটনায় কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। আধিকারিকদের অলসতার জন্য আজকে আমাদের এই পরিস্থিতি। ভবিষ্যতে এমন কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে। অন্যথায় আগামীদিনে ট্রাক ড্রাইভাররা বৃহত্তর আন্দোলনে গেলে তাতে আমরা সমর্থন দেবো।’     

এ ব্যাপারে আজ ‘জনপথ পরিবহণ মজদূর ইউনিয়ন’-বনগাঁ শাখার সম্পাদক আনন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্প্রে করে ড্রাইভারকে অজ্ঞান করে তাঁর কাছে থেক সবকিছু লুঠ করে নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে অবৈধভাবে শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমরা চাই, বাংলাদেশ ল্যান্ড পোর্টের যে অব্যবস্থা অতি দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান হোক। অন্যথায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবো। বেনাপোল বন্দরে প্রশাসনিক সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও কার্যত তাদেরকে মান্যতা না দিয়ে ছিনতাই পার্টি বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্ম করে যাচ্ছে। বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাক চালকরা মারধরের শিকার হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে হয়রানির মুখে পড়েন।’ যে ট্রাক চালক সম্প্রতি অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর হয়েছেন তাকে বাংলাদেশের স্থানীয় মানুষজন সহযোগিতা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং পরবর্তীতে তাকে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলেও ‘জনপথ পরিবহণ মজদূর ইউনিয়ন’-এর সম্পাদক আনন্দ বিশ্বাস মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে আহত হৃষীকেশ যাদব নামে ওই ভারতীয় ট্রাক চালক আজ বিক্ষোভ কর্মসূচির সময়ে পেট্রাপোল সীমান্তে উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার উপরে হওয়া আক্রমণের কথা জানান। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/ আবুসাঈদ/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।