দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরীতে উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে, ২ সপ্তাহ পরে ফের শুনানি
ভারতের রাজধানী দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরীতে উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। আজ (বৃহস্পতিবার)এ সংক্রান্ত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ওই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ২ সপ্তাহ পরে ফের এ ব্যাপারে শুনানি হবে।
আদালত বলেছে, দিল্লি পৌর কর্পোরেশনের কর্মকাণ্ডে স্থগিতাদেশ অক্ষুণ্ণ থাকবে। দুই সপ্তাহ পরে এই বিষয়ে শুনানি হবে। অর্থাৎ, দুই সপ্তাহ ধরে জাহাঙ্গীরপুরীতে দখলদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না উত্তর দিল্লি পৌর কর্পোরেশন।
ওই ইস্যুতে আজ প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি দেশের দুর্ভাগ্য যে দেশ বুলডোজার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, নির্বাচিত সরকার দ্বারা নয়। তিনি আরও বলেন, আপনি যেই হোন না কেন, আপনার বাড়ি ভাঙার নোটিশ দিতে হবে, আইনে তা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ‘ধর্ম’কে যদি এ ধরনের কাজের মাপকাঠি বানিয়ে ফেলেন, তাহলে এর চেয়ে নিন্দনীয় আর কিছু হতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘এ দেশে মূল্যস্ফীতির ওপর বুলডোজার চালানো উচিত। বেকারত্বের উপর বুলডোজার চালানো উচিত, ধর্মান্ধতার উপর বুলডোজার চালানো প্রয়োজন, রক্ষণশীলতা বুলডোজ করা আবশ্যক কিন্তু সে সব ছেড়ে দিয়ে ক্ষমতাসীনরা মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের ওপর বুলডোজার চালাচ্ছে এবং ভাইকে ভাইয়ের সাথে লড়িয়ে দেওয়ার জন্য বুলডোজার চালানো হচ্ছে।’
হিন্দি গণমাধ্যম ‘নবজীবন ইন্ডিয়া ডটকম’সূত্রে প্রকাশ, উত্তর দিল্লি পৌর কর্পোরেশন অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদের নামে পক্ষপাতিত্ব করেছে। কর্পোরেশনের টিম জাহাঙ্গীরপুরীতে অবস্থিত মসজিদের সামনের অবৈধ নির্মাণ অপসারণ করলেও পুলিশ মন্দিরের সামনের অবৈধ নির্মাণ অপসারণ করতে গেলে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। পরে বুলডোজারকে পিছু হটতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে কর্পোরেশনের পদক্ষেপ নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এ সময়ে মসজিদের সামনে অবস্থিত গেট এবং গেটের সঙ্গে যুক্ত দেয়াল ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত একটি মোবাইলের দোকানেও বুলডোজার চালানো হয়। কিন্তু মসজিদের আশেপাশে অবস্থিত মন্দির সংলগ্ন অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
‘নবজীবন ইন্ডিয়া ডটকম’সংবাদ সংস্থা ‘এএনআই’কে উদ্ধৃত করে তাদের প্রকাশিত ভিডিওতে কীভাবে পৌর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের চারপাশের এলাকা ভেঙে ফেলা হয়েছে তা স্পষ্ট করেছে।
‘নবজীবন ইন্ডিয়া ডটকম’সূত্রে প্রকাশ, সি ব্লকে অবস্থিত মসজিদকে টার্গেট করে এর গেট এবং এর পার্শ্ববর্তী দোকানগুলো বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র একশো মিটার দূরে নির্মিত মন্দির এবং এর আশেপাশের দোকানগুলোকে ছুঁয়েও দেখা হয়নি। স্থানীয় লোকজন পৌর কর্তৃপক্ষের এই একতরফা পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।