মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন
'আমরা বাংলা ভাগ করতে দেবো না, দাঙ্গাকারীদের মদদ দেবো না'
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আমরা বাংলা ভাগ করতে দেবো না। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাঁচলা মোড়ে সরকারি পরিসেবা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন।
মমতা বলেন, ‘কারও সাথে কারও আড়াআড়ি নয়, কারও সাথে কোনও ভাগাভাগি নয়। বাংলা ভাগ আমরা করতে দেবো না। দাঙ্গাকারীদের আমরা মদদ দেবো না। মনে রাখবেন দেশটাকে ভালো রাখতে হবে।’ প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি নেতারা বাংলাভাগের পক্ষে একনাগাড়ে আওয়াজ তুলছেন। উত্তরবঙ্গকে ভাগ করে তারা আলাদা রাজ্য তৈরির দাবি জানাচ্ছেন।
একশো দিনের প্রকল্পে কাজের টাকা কেন্দ্রীয় সরকার না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা আজ বলেন, ‘একশো দিনের টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দিলো না। যদি দিত তাহলে আমি কিছু বলতাম না। আমি বলতাম নিশ্চয়ই দিয়েছে। এগুলো তো আর লুকোনো যায় না। একশো দিনের কাজের সাত হাজার কোটি টাকা আমরা পাই। কাজ করিয়েছে, কিন্তু টাকা দেয়নি। আমি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে আবেদন করব গরীব লোকেদের টাকা মারবেন না। দয়া করে গরীব লোকেদের টাকা ফিরিয়ে দিন। ওরা দেয়নি, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা ১০ লক্ষ কর্মদিবস তৈরি করেছি, ১০ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডারদের আমরা কাজ দিয়েছি রাজ্য সরকারের পয়সা থেকে। গ্রামীণ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার পয়সা দেয় না। আবাস যোজনা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে, পয়সা দেয় না। এরকমভাবে চলতে পারে না। ১১ লক্ষ লোকের বাড়ির টাকা পড়ে আছে। ফুড সাবসিডি কেটে দেওয়া হয়েছে যাতে গরীব লোক খাদ্য না পায়। আমরা বিনাপয়সায় রেশন দিচ্ছি। আর ওরা টাকা কেটে দিচ্ছে। শিক্ষায় টাকা কেটে দিচ্ছে, রাস্তায় টাকা কেটে দিচ্ছে।’
‘বাড়ির টাকা ওরা একা দেয় না। আর এই টাকাটা রাজ্য থেকে তুলে নিয়ে যায়, মাছের তেলে মাছ ভাজে। রাজ্য সরকার ট্যাক্স সংগ্রহ করে না, ট্যাক্স সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন একটাই ট্যাক্স রয়েছে ‘জিএসটি’। আমাদের টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে, যে ভাগটা আমরা পাবো, সেটাও দিচ্ছে না’ বলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।