মণিপুর ইস্যুতে কোলকাতায় বিক্ষোভ-মিছিল: বিজেপিকে উৎখাতের ডাক কামরুজ্জামানের
সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান দেশে শান্তি-সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে বিজেপিকে উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ (শনিবার) বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় বিজেপিশাসিত মণিপুরে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেন।
মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান আজ বলেন, ‘আমরা ভারতবর্ষের মানুষ। আমরা স্বাধীনতার পর থেকে আমরা মনে করেছি যে হিন্দু আমার ভাই, খ্রিস্টান আমার ভাই, বৌদ্ধ আমার ভাই, শিখ আমার ভাই। আমরা সবাই ভাই ভাই একসঙ্গে থাকব। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে মানুষকে বোঝানো হয়েছে, হিন্দুর ভাই কখনও মুসলমান হতে পারে না, ব্রাহ্মণের ভাই কখনও দলিত হতে পারে না, খ্রিস্টান কখনও হিন্দুর ভাই হতে পারে না। এভাবে রাজনৈতিক চক্রান্তে ভারতবর্ষের বুকে যে মুহাব্বত, যে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিল, সেই বন্ধনকে নষ্ট করে দিয়ে গোটা দেশজুড়ে আজকে ঘৃণার বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছে। সেজন্য পুনরায় যদি ভারতের সেই সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে হয়, যদি মণিপুর শান্ত করতে হয়, যদি চীনকে হটাতে হয়, যদি জম্মু-কাশ্মীরের ভাইদেরকে আমাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আলিঙ্গন করে নিতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশ থেকে বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উৎখাত করে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ধর্মনিরপেক্ষ নতুন সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে।’
‘আমরা চাই, মণিপুর শান্ত হোক, মণিপুরের মা-বোনেদের ইজ্জত রক্ষা হোক এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হোক। যারা মণিপুরের বাইরে আছে, তাদেরকে অবিলম্বে মণিপুরে ফিরিয়ে আনার সমস্ত ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকার করুক’ বলেও মন্তব্য করেন সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান। আজ বিক্ষোভকারীরা ‘সেভ মণিপুর’সহ বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করার পাশাপাশি ‘নরেন্দ্র মোদীর স্বৈরাচার চলবে না-চলবে না’, ‘বিজেপির স্বৈরাচার চলবে না-চলবে না’, ‘দেশজুড়ে বিজেপির রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস মানছি না-মানব না’, ‘অমিত শাহের(স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী) কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
প্রসঙ্গত, মণিপুরে গত ৩ মে উপজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর’ (এটিএসইউএম)-এর কর্মসূচি ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল। সেখানে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে দু’শো মানুষ নিহত এবং ৫০ হাজারের বেশি গৃহহীন হয়েছেন বলে জানা গেছে। মণিপুর হাই কোর্ট ‘মেইতেই’দের ‘তফসিলি উপজাতি’র মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেই উপজাতি সংগঠনগুলো যৌথভাবে তার বিরোধিতায় মাঠে নামে। আর সেই ঘটনা থেকেই সহিংসতার সূচনা হয় সেখানে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।