তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করতে গিয়ে সিপিএম-কংগ্রেস ‘জিরো’ হয়ে গেছে: মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘অন্ধভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করতে গিয়ে সিপিএম-কংগ্রেস ‘জিরো’ হয়ে গেছে। তিনি আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় দলীয় বর্ধিত কোরকমিটির সভায় ওই মন্তব্য করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়নের নাম করে কথায় কথায় বনধ, হরতাল, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও কালচার সিপিএম, কংগ্রেস তৈরি করেছে। আর বিজেপি তো তৈরি করেছেই, ওদের তো সহিষ্ণুতা, অসহিষ্ণুতা কোথায় চলে গেছে কেউ জানে না। সুতরাং ওরা এসব করতে পারে। ‘ওরা’ আর ‘আমরা’ এক নই।’
তিনি বলেন, ‘মনুষ্যত্বের বিকাশ হলে তার নাম রাজনীতি। মানবিকতার যেখানে বিকাশ হয়, তার নাম রাজনীতি। মনুষ্যত্ব ধ্বংস করার নাম রাজনীতি নয়। এটা সকলেই মাথায় রাখবেন। ‘ওরা’ যা করতে পারে, ‘আমরা’ তা করতে পারি না। ওদের লজ্জা আছে! এটা বুঝতে পারছে না সিপিএম-কংগ্রেস, অন্ধভাবে তৃণমূলের বিরোধিতা করতে গিয়ে আজকে নিজেরা ‘জিরো’ হয়ে গেছে ; সম্পূর্ণ জিরো।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দলীয় মতবিরোধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে উপস্থিত মন্ত্রী ও নেতাদের হুঁশিয়ারি দেয়াসহ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া মুকুল রায়ের নাম না করে তাকে ‘গাদ্দার’ বলে অভিহিত করেন।
মমতা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের নজর রাখতে হবে। বিজেপি আর কংগ্রেস ডিজিটাল গণমাধ্যমে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। আমাদের এত টাকা নেই। বিজেপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যে খবর ছড়াচ্ছে ও অপপ্রচার করছে। ওদের কাউন্টার করতে হবে।’
মমতা বলেন, ‘আমরা অর্থাভাবে মার খাচ্ছি। টাকা থাকলে প্রত্যেক আসনে আমরা ভালোভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারতাম। ত্রিপুরা আমাদের পরিচিত জায়গা, তৈরিও করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দলে একজন ‘গাদ্দার’ ছিল, সেই গাদ্দার ভেঙে দিয়ে বিজেপি’র সঙ্গে সকলকে যুক্ত করে চলে গিয়েছে।’
তিনি আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কীভাবে সুর চড়াতে হবে দলীয় নেতাদের তার লাইন ঠিক করে দেন।
মমতা বলেন, ‘ মহারাষ্ট্রে কৃষক হত্যা হচ্ছে কেন, বিজেপি জবাব দাও, এফআরডিআই প্রত্যাহার করা হচ্ছে না কেন বিজেপি জবাব দাও, পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেল প্রকল্প তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র হলো কেন বিজেপি জবাব দাও, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে কেন, জবাব দাও এসব কথা বলতে হবে।’
তিনি বিরোধীদের সালোচনা করে বলেন, প্রত্যেকদিন পেট্রোল, ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও কংগ্রেস চুপচাপ, সিপিএমের মুখ বন্ধ, বিজেপি’রও মুখ বন্ধ হয়ে আছে! #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/৩১