আচ্ছে দিনের নামে জনগণের টাকা কেড়ে নেয়া হচ্ছে: মমতার অভিযোগ
-
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আচ্ছে দিন’ (সুদিন)-এর নামে জনগণের টাকা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে এক জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম স্লোগান ও কর্মসূচি হল ‘আচ্ছে দিন’। প্রধানমন্ত্রী মানুষের মধ্যে সুদিন আনার অঙ্গীকার করেছেন। মমতা আজ সেই বহুলপ্রচলিত ‘আচ্ছে দিন’কে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, "এক ছিল সিপিএম দল, কিচ্ছু করে না। এখান থেকে তাদের একজন এমপি আছেন। তিনি কথায় কথায় টিভিতে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ৩৪ বছর আপনাদের সরকার ছিল, কোনো দিন বিনা পয়সায় চিকিৎসা করেছেন? আর কোনো দিন দু’টাকা কিলো চাল দিয়েছেন? কোনো দিন কন্যাশ্রী করেছেন? কোনো দিন সবুজ সাথী করেছেন? শুধু ভাষণ? টিভিতে মুখ না দেখালে বউ খেতে দেবে না এমন অবস্থা হয়ে গেছে কয়েকজনের! আর একটা কংগ্রেস দল, বাংলায় এরা ‘না ঘর কা, না ঘাট কা’। খায় না মাথায় দেয় ভগবান জানে! আর একটা রাজনৈতিক দল দিল্লিতে এখন ক্ষমতায় আছে। শুধু ভাষণ ‘সাচ্চা ভারত’, কী সাচ্চা ভারত? মানুষের সব টাকা কেড়ে নাও। ‘আচ্ছে দিন’, আচ্ছে দিনের মধ্য দিয়ে ব্যাংকের টাকা লুট করে নিন। বিজেপির আচ্ছে দিন, জনগণের টাকা কেড়ে নিন। বিজেপির আচ্ছে দিন, ব্যাংকের টাকা লুট করে নিন। কৃষকদের টাকা কেড়ে নিন। জনগণের টাকা কেড়ে নিন, আর জনগণকে সর্বস্বান্ত করে দিন। একটাই কাজ, নেই কাজ তো খই ভাজ।"
মমতা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যে এফআরডিআই বিল আনা হচ্ছে তাতে ব্যাংকে জমানো মানুষের টাকা নিরাপদ থাকবে না। মানুষ টাকা ফেরত পাবেন কী না তার ঠিক নেই।
বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, "নির্বাচন এলেই হিন্দু না মুসলমান! তখন 'হরে কৃষ্ণ হরে হরে' বলবে, রাম কাহিনী গাইবে। আর নির্বাচন চলে গেলে ব্যাংকের টাকা লুট করবে, জনগণের টাকা লুট করবে, কৃষকদের টাকা লুট করবে, মা-বোনেদের পকেট লুট করবে!"
তিনি বলেন, "দেশের বিভিন্ন রাজ্যে দেনার দায়ে বারো হাজার কৃষক মারা গেছে। তারা ব্যাংকের ঋণ শোধ না করতে পারলে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। কিন্তু সরকার যদি ব্যাংক লুট করে তাদের কী শাস্তি হবে? এই সরকারের আমলে মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানুষের জীবন ধারার নিরাপত্তা নেই। শুধু একটাই কাজ, ‘আচ্ছে দিন’- ‘আচ্ছে দিন’ আর সব বাদ দিন।’
তিনি বলেন, "আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে দিল্লির সাথে। এই লড়াইটা রাজনৈতিক লড়াই নয়, রাজনৈতিক লড়াই নির্বাচনের সময় হয় আমি তা বুঝি। আজকে ফেডারেল স্ট্রাকচারকে বুলডোজ করা হচ্ছে।"#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২২