দিল্লির সরকার বদলে দিন, বিজেপিকে কবর দিন: মমতা
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার পরিবর্তন করে বিজেপিকে কবর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) পশ্চিমবঙ্গের মাথাভাঙায় এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই আহ্বান জানান।
মমতা বলেন, ‘আপনারা জানেন যখন নোট বাতিল হয়েছিল, অনেক মানুষের চাকরি চলে গিয়েছিল। এখানে ওখানে যারা কাজ করতেন তারা ফিরে এসেছিলেন। আমরা তাদের পরিবারগুলোকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দিয়েছি যাতে সে অন্তত একটা চায়ের দোকান করতে পারে। মোদিবাবু নিজেকে চা-ওয়ালা বলে সবার চাকরি খেয়ে নিয়েছে। আর আমরা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছি। পাঁচ বছর আগে উনি যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, ‘এক্সপায়ারি প্রধানমন্ত্রী’ তখন বলেছিলেন, আমি চা-ওয়ালা। কিন্তু চা-ওয়ালা চলে গেছে। কেটলিও নেই, চা-ও নেই, চিনিও নেই। ভাঁওতা প্রমাণিত হয়ে গেছে। এখন আবার বলছেন আমি তো ‘চৌকিদার’। কিন্তু লোকে তো বলছে, ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’। আমি তো বলিনি। আমি বলেছি ‘চৌকিদার ঝুটা হ্যায় (মিথ্যেবাদী)’। মিথ্যে কথা ছাড়া একটাও সত্যি কথা বলেন না।’
প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘কোনোদিন বাংলার দিকে তাকিয়ে দেখেছেন বাবুরা? আমি এই প্রথম দেখছি, নির্বাচনের নামে একেক জনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে! এটা দেশের পক্ষে বড় কুৎসা। আমরা কুৎসাজনক নির্বাচন চাই না। আমরা গণতন্ত্রের সঠিক নির্বাচন চাই। টাকা বিলি করে ভোট কিনবে? মানুষ যখন খেতে পায় না তখন তো খেতে দাও না? একটা ওষুধ কিনে দিয়েছ কোনও দিনও? কারো দুটো বই কিনে দিয়েছ? কারো মেয়ের বিয়েতে সাহায্য করেছ? কিচ্ছু করোনি। আজকে নির্বাচনের সময় জনগণের টাকা জনগণকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে তুলে নিয়েছে। এরা যদি আবার ক্ষমতায় আসে ব্যাঙ্কে যা টাকা আছে তাও পাবেন না আর! কিছুদিন আগে দেখছিলাম, অর্থমন্ত্রী বলছেন, চৌকিদার জেটলি। চৌকিদার কেটলি নয়, চৌকিদার জেটলি। চৌকিদার জেটলি বলছিলেন এক লাখ টাকার বেশি কেউ তুলতে পারবে না। আপনি যদি সারা জীবনের সব সঞ্চয় রেখে দেন, ওরা ঠিক করবে কত টাকা তুলতে পারবেন, কত টাকা তুলতে পারবেন না। কৃষকরা অনেক কষ্টে টাকা রাখেন। তাঁর টাকা তুলতে পারবেন কি না ওরা ঠিক করবে?’
তিনি বলেন, ‘বিজেপির আমলে গত পাঁচ বছরে বেকারত্ব ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এক বছরে দু’কোটি লোকের চাকরি চলে গেছে। এখন ওরা বড় বড় কথা বলছে। কথায় চিড়ে ভেজে না। বিগত নির্বাচনের সময় ওরা বলেছিলেন, বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধার করে সবার অ্যাকাউন্টে পনের লাখ টাকা করে দিয়ে দেবো। মা-বোনেরা বলুন পনের লাখ টাকা মোদি বাবু দিয়েছেন? দেয়নি। এভাবে ধাপ্পাবাজি করে ভোট নিয়েছে। ভোটের পরে এবার আবার নতুন করে চৌকিদার সেজেছে। আসল চৌকিদার অনেক জায়গায় বেতন পাচ্ছেন না।’
মমতা বলেন, ‘পনের লাখ টাকা কোথায় গেল? চৌকিদার মিথ্যেবাদী! বেকারদের চাকরি হয়নি কেন? বিজেপি জবাব দাও। কৃষকরা আত্মহত্যা করে মারা যাচ্ছে কেন? ১২ হাজার কৃষক দেশে আত্মহত্যা করেছে। মোদি বাবু বাংলায় নয়, মহারাষ্ট্রে, গুজরাটে বিজেপি যেখানে যেখানে সরকারে আছে সেসব জায়গায়। কেন কৃষকরা আত্মহত্যা করেছে, জবাব চাই, জবাব দাও। গো-রক্ষকের নাম করে মানুষগুলোকে হত্যা করেছ কেন? জবাব চাই, জবাব দাও। হঠাৎ করে বাংলা আমার চাই, কেন? অসম আপনার পাশের রাজ্য এনআরসির নাম করে ২২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ দিয়েছে। ২৩ লাখ মুসলিমের নাম বাদ দিয়েছে। পাহাড়ের ছেলেমেয়েদের নাম বাদ দিয়েছে। গর্ব করে বলছে বাংলায় বিজেপি জিতলে আমরা এখান থেকে সব তাড়িয়ে দেবো! এনআরসি করব। আমরা বলেছি, বাংলায় তোমাদের দুটো আসন ছিল এবার একটাও পাবে না। বাংলায় তোমাদের এনআরসি আমরা কোনোদিনই করতে দেবো না। এতবড় সাহস! সবাইকে নাকি তাড়িয়ে দেবে। সবাই যেন ওনার দয়ায় অধিকার পেয়েছে। যেন উনি সবাইকে খাইয়ে বাঁচিয়ে রেখে দিয়েছেন। দাঙ্গা করে এদের সারা শরীরে রক্ত লেগে আছে। মানুষকে খুন করার রক্ত! কীকরে যে প্রধানমন্ত্রী হল ভগবানই জানেন! যার কথাবার্তার মধ্যেও এতটুকু সৌজন্যতাবোধ নেই! মোদি বাবুর এক্সপায়ারি ডেট হয়ে গেছে, ওই ওষুধ আর কাজে লাগবে না। কী করে জিতবে?’
তিনি বলেন, ‘মোদি বাবুদের তিনটে গুণ, লুট-দাঙ্গা-মানুষ খুন’। এছাড়া আর কোনো কাজ করে না।’ কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বিজেপিকে বদলে দিয়ে বিজেপিকে এই মাটিতে ভালো করে কবর দিন বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৪