ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধের দাবিতে পেট্রাপোলে বিক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i79540-ভারত_বাংলাদেশের_মধ্যে_বাণিজ্য_বন্ধের_দাবিতে_পেট্রাপোলে_বিক্ষোভ
ভারতে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রাখার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। আজ (শনিবার) দুপুরে শ্রমিক নেতা অমিত কুমার বসুর নেতৃত্বে শ্রমিকরা স্লোগান দিয়ে পেট্রাপোল সীমান্তে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মে ০২, ২০২০ ১৪:২৪ Asia/Dhaka
  • পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দর
    পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দর

ভারতে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রাখার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। আজ (শনিবার) দুপুরে শ্রমিক নেতা অমিত কুমার বসুর নেতৃত্বে শ্রমিকরা স্লোগান দিয়ে পেট্রাপোল সীমান্তে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

লকডাউনের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলকভাবে সীমান্ত বাণিজ্য চালু হয়েছিল। গতকাল (শুক্রবার) স্বাভাবিক নিয়মে বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও আজ (শনিবার) সকাল থেকে বাণিজ্য বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শ্রমিকরা।      

পেট্রাপোলের লোড-আনলোডের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, পেট্রাপোলে আমদানি-রফতানির কাজ চললে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাক লোডিং-আনলোডিং শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি অমিত কুমার বসু বলেন, ‘লকডাউনে শ্রমিকরা কাজ হারিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের স্বার্থ না দেখা হলে কোনোভাবেই আমরা বাণিজ্যের কাজ চলতে দেবো না। পেট্রাপোল বর্ডার ৩৯ দিন বন্ধ হয়ে আছে। এরমধ্যে কোনও ব্যবসায়ী সংগঠন, ক্লিয়ারিং এজেন্ট, ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, ট্রান্সপোর্ট, বা এক্সপোর্টারসহ কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের এই দুঃসময়ে তারা কেমন আছে তার খোঁজখবর নেননি। আমরা হঠাৎ শুনতে পাচ্ছি যে, আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পরে বাংলাদেশে কিছু গাড়ি যাওয়া শুরু করেছে। কয়েকজন ব্যবসাদারের স্বার্থে এভাবে আমরা কোনোমতেই এক্সপোর্ট হতে দেবো না।’

বনগাঁর সাবেক বিধায়ক ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের মেন্টর গোপাল শেঠ বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার কথা না জেনে কেন্দ্রীয় সরকার বারবার প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে এক্সপোর্ট করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছে। আমরা এজন্য অত্যন্ত ব্যথিত। যখন বেনাপোল বা সারসায় করোনাভাইরাসে ছেয়ে গেছে, যেখানকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছে, আজকে আমাদের যারা গরীব ড্রাইভার, খালাসি, লেবার ভাই, ক্লিয়ারিং এজেন্ট, ট্রান্সপোর্টার যারা বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে তাঁদের সংস্পর্শে চলে আসবে তাঁদের ৮০ শতাংশ করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্লিয়ারিং এজেন্ট ও অন্যরা প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের অসাধু উদ্দেশ্য সফল করার জন্য যারা এক্সপোর্ট চালু করার চেষ্টা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি যদি একটাও করোনা আক্রান্ত হয় তাহলে বনগাঁর মানুষ কিন্তু তাদেরকে ছেড়ে কথা বলবে না।’   

গোপাল শেঠ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে বাংলাদেশে এক্সপোর্ট বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছে। অন্যথায় যেকোনো সময়ে বনগাঁয় করোনা ধেয়ে আসবে।’

অন্যদিকে, পেট্রাপোল ইন্টিগ্রেটেটেড চেকপোস্টের (আইসিপি) ম্যানেজার শুভজিৎ মন্ডল বলেন, ‘এক্সপোর্টের গাড়িগুলো বাংলাদেশের শ্রমিকরা জিরো পয়েন্টে খালি করছেন। ভারতের মধ্যে প্রবেশ করছেন না। সুতরাং সংক্রমণ সুযোগ খুব নগণ্য। বাংলাদেশ থেকে আমাদের এখানে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ইমপোর্ট এখনও চালু হয়নি। সেজন্য ভারতীয় শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না। ফলে সেখান থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ  নেই। এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট চালু করার জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আদেশ আছে। সরকার যদি এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট বন্ধের নির্দেশ তাহলে আমরা অবশ্যই নেই নির্দেশ পালন করব।’

বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য চালু রাখার আদেশ রয়েছে বলেও পেট্রাপোল আইসিপি’র ম্যানেজার শুভজিৎ মণ্ডল জানান।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।