উত্তর প্রদেশে তাজিয়া মিছিলের অনুমতি না দিলে গ্রেফতারবরণ করবেন কালবে জাওয়াদ
ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে আশুরাকে কেন্দ্র তাজিয়া মিছিল ও মজলিশ করতে দেওয়ার দাবিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে করোনা পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাতম, মজলিশ ও তাজিয়া মিছিলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
রাজধানী লক্ষনৌ'র বিশিষ্ট শিয়া আলেম মাওলানা কালবে জাওয়াদ আশুরার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তিনি এ ব্যাপারে লক্ষনৌ'র পুলিশ কমিশনার সুজিত পাণ্ডেকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে মাতম, মজলিশ ও তাজিয়া মিছিলের অনুমতির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
মাওলানা কালবে জাওয়াদ বলেন, প্রশাসন যদি অনুমতি না দেয় তাহলে তিনি গ্রেফতারবরণ করবেন। তিনি বলেন, মহররমের শোক মিছিলে পুলিশ তাজিয়া বহন করা ও এ সংক্রান্ত পণ্য বিক্রির অনুমতি দিচ্ছে না।

লক্ষনৌ'র পুলিশ কমিশনার সুজিত পাণ্ডে বলেন, মাওলানা কালবে জাওয়াদ তাঁর মতামত জানিয়েছেন। তাঁদেরকে বলা হয়েছে যে, কোভিড-১৯ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনও জনসমাগমের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হবে না যা বিতর্ক সৃষ্টি করবে।
মাওলানা কালবে জাওয়াদ বলেন, আমরা পুলিশ কমিশনারের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। আমরা কথা বলেছি। আমরা করোনা প্রোটোকল মেনে তাজিয়া এবং মিছিল বের করব। আমরা আমাদের বক্তব্য রেখেছি, তবে অনুমতি না দেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ চাইলে আমাকে গ্রেফতার করতে পারে।
এদিকে, ভারতের তৃণমূলশাসিত পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী নারিকেল বেড়িয়ায় এবার আশুরার তাজিয়া মিছিল বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করবে কী না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি চলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে নারিকেল বেড়িয়া কারবালা কমিটির সম্পাদক সৈয়েদ মদত আলী জানিয়েছেন।
আজ (শুক্রবার) সাইয়েদ মদত আলী রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘তাজিয়া মিছিল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ নিয়ে চেষ্টা চলছে। প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত কোনোভাবেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কে হবে জানি না। প্রশাসন যদি মিছিলের অনুমতি না দেয়, তাহলে আমরা নিজ নিজ গ্রামে ১০ই মহররম জুলুস আকারে বের করে আমরা আমাদের অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন করব। নারিকেল বেড়িয়াতে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ যাবে বলে আমি জানতে পেরেছি।’
সাইয়েদ মদত আলী আরও বলেন, ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের এ পর্যন্ত সাতটি বৈঠক হয়েছে। আগামীকালও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকের পরেই সঠিক কী হবে তা বলা যাবে। তবে এ পর্যন্ত মিছিল হবে না বলেই আমরা জানি।’
‘যদি কারবালায় (নারিকেল বেড়িয়া) না যেতে পারি তাহলে আমরা নিজ নিজ গ্রামে তাজিয়া, আলম, নিশান ইত্যাদি নিয়ে জুলুস বের করব। আশুরার আমল শেষ করে নামাজ পড়ে মজলিশ শেষ করে এবারকার মতো আশুরা পালন করব’ বলেও নারিকেল বেড়িয়া কারবালা কমিটির সম্পাদক সৈয়েদ মদত আলী জানিয়েছেন।
আশুরাকে কেন্দ্র করে ইতিহাসখ্যাত সাইয়্যেদ মীর নিসারআলী ওরফে তিতুমীরের স্মৃতিবিজড়িত পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার নারিকেল বেড়িয়ায় বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর, বসিরহাট, দেগঙ্গা প্রভৃতি থানা এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। ১৯৩২ সাল থেকে এখানে আশুরার বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে আসছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।