বিহার ও ঝাড়খন্ডে ২ সাংবাদিককে হত্যা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেটলির নিন্দা
ভারতের বিহার এবং ঝাড়খন্ডে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ সাংবাদিককে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হত্যা করায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ওই দুই সাংবাদিক হলেন, রাজদেও রঞ্জন এবং অখিলেশ প্রতাপ সিং।
আজ (শনিবার) কেন্দ্রীয় অর্থ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অরুণ জেটলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আজ এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘আমি কঠোরভাবে সাংবাদিক রাজদেও রঞ্জন এবং অখিলেশ প্রতাপ সিংকে হত্যার নিন্দা জানাচ্ছি।’ তিনি এ ঘটনার স্বাধীন তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার রাতে বিহারের সিওয়ান স্টেশনের কাছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয় ২৪ বছর ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকা রাজদেও রঞ্জন (৪৫)। তিনি ‘হিন্দুস্তান’ নামে এক সংবাদপত্রের ব্যুরো চিফ ছিলেন। একটি সূত্রে প্রকাশ, দুর্বৃত্তরা আগে থেকে মোটর সাইকেল নিয়ে স্টেশনের কাছে ঘাপটি মেরে ছিল। পরে সুযোগ বুঝেই ওই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোঁড়ে দুর্বৃত্তরা। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডের ছাতরা জেলায় বৃহস্পতিবার রাতে অখিলেশ প্রতাপ (৩৫) নামে এক সাংবাদিককে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করতেন।
জেডিইউ শাসিত বিহারে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি বোঝাতে বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হুসেন মন্তব্য করেছেন, ‘এটা জঙ্গল রাজ নয়, মহা জঙ্গল রাজ। ওর হত্যার কথা জেনে খারাপ লাগল। রাজদেও ছিলেন এক নির্ভীক সাংবাদিক।’
জেডিইউ নেতা কে সি ত্যাগী পাল্টা জবাবে বলেছেন, বিহারে হত্যার ঘটনা ঘটলে তা জঙ্গল রাজের নিদর্শন হয়, অন্য রাজ্যের বেলায় কী বলা হবে?
এদিকে, বিহারে অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেডিইউ জোট শরিক কংগ্রেস। দলটির সিনিয়র নেতা অশোক কুমার বলেন, ‘সরকারকে রাজ্যে বেড়ে চলা অপরাধকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিহারে ঘটে চলা সমস্ত ঘটনার দিকে নজর রেখে চলেছেন। কংগ্রেস নীতির প্রশ্নে সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে কিন্তু পরিস্থিতি বিপরীত হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।’
জেডিইউ নেতা শ্যাম রজক অবশ্য সাফাই দিয়ে বলেছেন, ‘সুশাসনেই নীতিশের পরিচিতি রয়েছে। সরকার তার কাজ করছে।’
এদিকে, বিজেপি শাসিত রাজস্থানের কোটায় কোচিং নিতে যাওয়া এক বিহারী ছাত্রের হত্যার ঘটনাকে তুলে ধরে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেছেন, রাজস্থানের কোটায় বিহারের ছাত্রকে হত্যার ঘটনা কী ‘মঙ্গল রাজ’? এবার ‘জঙ্গল রাজ’ বলে কটাক্ষকারীরা জবাব দিন রাজস্থানে কাদের সরকার রয়েছে?’
গত বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের ছাত্র সত্য প্রকাশ ওরফে প্রিন্স ছাত্রদের দুই গ্রুপের মধ্যে এক সংঘর্ষের ফলে নিহত হয়। তেজস্বী যাদব রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিহারে জেডিইউ নেতা মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ-আরজেডি-কংগ্রেস জোট সরকার ক্ষমতাসীন রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ওই রাজ্যে ‘জঙ্গল রাজ’ চলছে বলে মন্তব্য করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি শাসিত ঝাড়খণ্ড এবং রাজস্থানের ঘটনা তুলে ধরে পাল্টা জবাবি হামলা শুরু করেছেন বিহারের ক্ষমতাসীন জোট নেতারা। সবমিলিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি তথা ‘জঙ্গল রাজ’ এবং ‘মঙ্গল রাজ’-র কটাক্ষে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।#
এমএএইচ/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৪