পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে ওয়াশিংটন জবাব দিল ইউরোপকে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i112388-পরমাণু_সমঝোতার_বিষয়ে_ওয়াশিংটন_জবাব_দিল_ইউরোপকে
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে ইরানের দেয়া প্রস্তাবের জবাব ওয়াশিংটন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ইরানের মতামতের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখেছি এবং ইউরোপকে আমাদের মতামত জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ২৫, ২০২২ ১২:৩৪ Asia/Dhaka
  • মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস
    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে ইরানের দেয়া প্রস্তাবের জবাব ওয়াশিংটন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ইরানের মতামতের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখেছি এবং ইউরোপকে আমাদের মতামত জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কেনআনি জানিয়েছেন, ইউরোপীয় সমন্বয়কারীদের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের বিষয়ে তেহরানকে দেয়া ওয়াশিংটনের জবাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি আরো বলেছেন, মার্কিন জবাবের খুনিয়াটি দিকগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই চলছে এবং এরপরই ইরান তাদের বক্তব্য ইউরোপীয় সমন্বয়কারীদের কাছে উত্থাপন করবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন সরকার এমন সময় ইরানের বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে যখন ওই দেশটির কর্মকর্তারা এখনও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কারিন জন পিয়ের আজ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভিত্তিহীন দাবির পুনরাবৃত্তি করে তিনি আরো বলেছেন, ইরানের ব্যাপারে কূটনৈতিক পন্থাই আমাদের কাছে সবচেয়ে ভালো পন্থা এবং এখন আমরা দেখতে চাই ইরানের সঙ্গে আমরা কোনো  সমঝোতায় পৌছতে পারবো কিনা।

এর আগে হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কৌশলগত  যোগাযোগ বিষয়ক সমন্বয়কারী জন করবি বলেছিলেন, ২০১৮ সালে পরমাণু সমঝোতা থেকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেরিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রই একঘরে হয়ে পড়েছে। কিন্তু এ কথা স্বীকার করার পরও তিনি পরমাণু সমঝোতায় অটল না থাকার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করে দাবি করেছেন, মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন দাবির পুনরাবৃত্তি করবি আরো দাবি করেছেন আমরা প্রকাশ্যে এবং বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানকে এটা জানিয়ে দিয়েছি যে, তেহরানকে অবশ্যই আইএইএর সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। আমাদের উদ্বেগ দূর করার এটাই একমাত্র পথ।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই অভিযোগ এমন সময় করা হচ্ছে যখন ইরান বহুবার বলেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো স্থান নেই এবং তারা চেষ্টাও করছে না। প্রকৃতপক্ষে, ওয়াশিংটন বাস্তবতাকে উল্টো করে দেখানোর চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা জন কোরবি তার বক্তব্যের মাধ্যমে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। অথচ আইএইএর প্রতিবেদনগুলোতে দেখা গেছে আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতা মেনে চলেছে এবং নিজের প্রতিশ্রুতিতে অটল ছিল। এরপর নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ইরানও পাঁচটি ধাপে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন থেকে বেরিয়ে আসে। এখন ইরানের নীতি হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা সত্যিই তুলে নেয়া হলো কিনা সেটা দেখার পরই পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসবে। ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা হলেই কেবল তারা  পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসবে। তাই ওয়াশিংটনের প্রস্তাবেও ইরানের স্বার্থের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এর অন্যথায় সংলাপ প্রক্রিয়ায় যে কোনো ব্যর্থতার দায় আমেরিকাকে নিতে হবে। #           

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫        

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।