ইরানে ইসরায়েলি হামলায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি; তেহরান এখন কী চায়?
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i153794-ইরানে_ইসরায়েলি_হামলায়_জড়িত_থাকার_স্বীকারোক্তি_তেহরান_এখন_কী_চায়
পার্সটুডে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরানে ইসরায়েলের আক্রমণে আমেরিকার ভূমিকা ছিল।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
নভেম্বর ০৮, ২০২৫ ১৪:১৫ Asia/Dhaka
  • ইরাভানি
    ইরাভানি

পার্সটুডে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরানে ইসরায়েলের আক্রমণে আমেরিকার ভূমিকা ছিল।

পার্সটুডে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকারোক্তির পর জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছেন- “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই অপরাধের স্বীকারোক্তি থেকে এটা স্পষ্ট যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনে সরাসরি জড়িত ছিল ও আমেরিকা-ইসরায়েলকে এর পূর্ণ দায় বহন করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে আর সন্দেহের অবকাশ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল উভয়ই মানবহত্যা, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণের জন্য পরিপূর্ণভাবে দায়ী।

ইরাভানি আরও বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আমেরিকা ও তার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান সব আন্তর্জাতিক আইনি পথ অনুসরণ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। হতাহতসহ সব কিছুর ক্ষতিপূরণ তাদেরকেই দিতে হবে।

ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, ইরানে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলার পেছনে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ওই হামলা ছিল সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলের নিজস্ব সিদ্ধান্তে নেওয়া একটি পদক্ষেপ। কিন্তু এখন ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই স্বীকারোক্তি দেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েল প্রথমে হামলা চালায়। সেই হামলা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। আমি পুরোপুরি এই হামলার দায়িত্বে ছিলাম।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাযি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম “এক্স”-এ এক প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি ইসরায়েলের অন্যায় আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের অকাট্য প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, “আমেরিকাকে অবশ্যই এ বিষয়ে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।”

আইনি গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি ইরানের অবস্থানকে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এটি একটি অকাট্য ও বৈধ দলিল, যা প্রমাণ করে—ইরানের ভূখণ্ডে আগ্রাসনের সরাসরি দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তায়।

এই কাজ স্পষ্টভাবে জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে, যেখানে বলা হয়েছে—

“কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা হুমকি দিতে পারবে না।”

এছাড়া ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি  বা এনপিটির অধীনে থাকা আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতারও লঙ্ঘন।

ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি ইরানের জন্য এক আইনি ও কূটনৈতিক মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত। এটি ইরানকে আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘে আইনি পদক্ষেপের পথকে সহজ করে দেবে। এখন দেখার বিষয় হলো, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক

পার্সটুডে/এসএ/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।