ইরানের রাস্তায় যা ঘটছে তার পর্দার আড়ালে কে?
পার্সটুডে-বিদেশি হস্তক্ষেপের কারণে ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ বিশৃঙ্খলায় রূপ নিয়েছে।
১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যর্থতা এবং যুদ্ধের শুরুতে ঘোষিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্থাৎ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে ব্যর্থতার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে তিনি ইরানের উপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করবেন। পার্সটুডে অনুসারে,এই চাপের ফলে ইরানে মুদ্রার দাম বৃদ্ধি পায়, যার ফলে বিনিময় হারের অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভে নামেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু মঞ্চে এসে ইরানি জনগণকে ১২ দিনের যুদ্ধের মতো রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান; এমন কিছু যা সেই সময়কালে ঘটেনি এবং তার এবং তার মিডিয়া টিমের জন্য বিস্ময় ও হতাশার কারণ হয়েছিল। এই মন্তব্যগুলিতে, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে "ভেতর থেকে ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন" এজেন্ডায় রয়েছে।
ইরানে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টি
শত্রুরা ইরানে বিক্ষোভের আগুন জ্বালানোর জন্য অর্থনৈতিক চাপ ব্যবহার করেছে। এই চাপের কার্যকারিতার একটি কারণ হল ইরানে দ্বৈত বিনিময় হার। ইরান সরকার দেশের মুদ্রা পরিস্থিতির উপর আরও নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য এই অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছিল; সামষ্টিক অর্থনীতিতে এই পরিবর্তনগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল যে কিছু পণ্যের জন্য ভর্তুকি সরাসরি ইরানি নাগরিকদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। তবে, মাইক্রো-অর্থনীতির মাত্রায় যা ঘটেছে তা হল কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি; এই বৃদ্ধি ইরানি সমাজের একটি অংশের অসন্তোষ এবং প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। যাইহোক, এর মধ্যে যা ঘটেছে তা হল "ইরানি জনগণের বিক্ষোভ বাজেয়াপ্ত করা" এবং সীমান্ত পেরিয়ে এবং ইরানের শত্রুদের দ্বারা "সহিংসতার নির্দেশ"।
ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্রের প্রতি আশা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে
একটি অদ্ভুত পদক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল একটি বিস্তৃত মিডিয়া যুদ্ধের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অর্থনৈতিক বিক্ষোভের নেতৃত্বকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ক্ষমতাচ্যুত শাহ যিনি ইরান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জাতীয় রত্ন এবং ইরানের জাতীয় কোষাগারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তার সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন। পাহলভির উৎখাতের পর থেকে কয়েক দশক ধরে ইরানিদের বিক্ষোভের কারণ এটিই। যদিও ইরানিদের মধ্যে রেজা পাহলভির সামাজিক ভিত্তি নেই, তবুও তিনি ব্যাপক মিডিয়া ব্যয়ের মাধ্যমে ইরান-বিরোধীদের একটি অংশের মধ্যে তার নাম বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। পাহলভিদের প্রতি তার অবদান ছাড়াও, তার প্রতি প্রধান ঘৃণার একটি অংশ হল ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তার আচরণ। রেজা পাহলভি ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের উপর আক্রমণকে সমর্থন করেছিলেন এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাথে বহুবার দেখা করেছিলেন! অবশ্যই, ইসলামি ইরানের শত্রুরাও বারবার বলেছে যে এই ব্যক্তির এই ভূমিকা গ্রহণ করার ক্ষমতা নেই, তবে তারা তাকে একটি ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে কারণ তারা বিশ্বাস করে যে তিনিই একমাত্র ব্র্যান্ড যাকে স্মৃতিকাতরতা উস্কে দেওয়ার কৌশল ব্যবহার করে জেনারেশন জেডের একটি অংশকে একত্রিত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইহুদিবাদী সরকারের চ্যানেল ১৪ অনুসারে, রেজা পাহলভি কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তার সাথে দেখা করেছেন।
কিন্তু আমেরিকা এবং ইহুদিবাদীরা এই জ্বলন্ত প্রতীক বাজিয়েই থেমে থাকেনি। আজকাল,ট্রাম্প বিভিন্ন শিরোনামে বার্তা পাঠিয়েছেন যে তিনি দাঙ্গায় বিক্ষোভকারীদের পাশে আছেন। যদিও তিনি বারবার স্বীকার করেছেন যে বারো দিনের যুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধের দায়িত্বে ছিলেন। এমন একটি যুদ্ধ যেখানে শত শত ইরানি নারী, শিশু এবং বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছিলেন। তবে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনি নির্লজ্জভাবে নিজেকে ইরানি জাতির পক্ষে ঘোষণা করেছেন, যদিও অবশ্যই তিনি স্বীকার করেছেন যে তাদের বাহিনী (এজেন্ট) ইরানের রাস্তায় রয়েছে। অন্যদিকে, বারো দিনের যুদ্ধের অপরাধের মূল হোতা ইহুদিবাদীরা কেবল তাদের সমর্থনই করেনি, বরং প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে যে মোসাদের এজেন্টরা ইরানের রাস্তায় রয়েছে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন