সাম্প্রতিক:
সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ভাঙনই লক্ষ্য; কেন ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল?
-
ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আসল কারণ
পার্স টুডে – বিদেশি শত্রুদের মদদে সুসংগঠিত সন্ত্রাসীদের হাতে ইরানে সহিংসতা ও সরকারি–বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা বাড়তে থাকায়, ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে।
পার্স টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের প্রথম দিকের দিনগুলোতে ইরানের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের পাশে ছিল, যাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা বুঝতে পারে যে কিছু সশস্ত্র লোকজন সাধারণ মানুষের ভিড়ে লুকিয়ে থেকে বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
শুরুতে নিরাপত্তা বাহিনী জনগণের কথা ভেবে এসব গোষ্ঠীর প্রতি সহনশীল আচরণ করেছিল, কিন্তু পরে স্পষ্ট হয় যে তারা শুধু দাঙ্গাবাজ নয়, বরং বিদেশ থেকে লেলিয়ে-দেয়া সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসী দল। তাই ইরানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়ে নাগরিকদের জানায়: “দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে।”
যখন ইরানের নাগরিকরা দৈনন্দিন কাজের জন্য জাতীয় ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার বজায় রেখেছিল, তখন আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় সন্ত্রাসীদের বিদেশি সংগঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে—যাতে সারাদেশে নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন করা যায়।
ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার পর, দেশের ভেতরের সন্ত্রাসীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং তাদের বিদেশি পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ধ্বংসযজ্ঞ ও বিশৃঙ্খলার মাত্রা কমে আসে। এতে বিদেশি এজেন্ট ও অভ্যন্তরীণ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার ও গ্রেপ্তারের সুযোগও তৈরি হয়। এই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ধাপটি জনগণের সহযোগিতায় সম্ভব হয়, কারণ তারা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
জনগণের এই সহযোগিতা তখনই গড়ে ওঠে যখন তারা নিজের চোখে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস হতে দেখে এবং প্রতিবাদকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হতে দেখেছিল। এতে কোনো সন্দেহ থাকেনি যে কোনো ইরানি নিজের হাতে নিজের দেশ ধ্বংস করতে চাইবে না। এখান থেকেই বিক্ষোভকারীরা নিজেদের পথ সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের থেকে আলাদা করে নেয়। ফলে ইন্টারনেট বন্ধের কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হলেও, জনগণ সিদ্ধান্ত নেয় যে দেশের পূর্ণ নিরাপত্তা ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা এই অসুবিধা মেনে নেবে।
কিন্তু ইরানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেপথ্যের শক্তিগুলো, যাদের পরিকল্পনা ইন্টারনেট বন্ধের কারণে ব্যর্থ হয়েছিল, হতাশা থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। এতটাই যে বহু হিব্রু ও পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়ে ওঠে—ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।