আপনারা কোন্‌ পক্ষে আছেন: মুসলিম উম্মাহর প্রতি লারিজানির প্রশ্ন
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i157850-আপনারা_কোন্_পক্ষে_আছেন_মুসলিম_উম্মাহর_প্রতি_লারিজানির_প্রশ্ন
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদের সচিব ড. আলী লারিজানির বিশ্বের মুসলিমদের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছেন। আজ (সোমবার) পাঠা্নো বার্তায় তিনি বলেছেন, আজকের এই লড়াইয়ে এক পাশে আছে আমেরিকা ও ইসরায়েল, অন্য পাশে আছে মুসলিম ইরান এবং প্রতিরোধের শক্তিগুলো। আপনারা কোন পাশে আছেন?
(last modified 2026-03-18T13:31:22+00:00 )
মার্চ ১৬, ২০২৬ ২২:১৯ Asia/Dhaka
  • ড. আলী লারিজানি
    ড. আলী লারিজানি

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদের সচিব ড. আলী লারিজানির বিশ্বের মুসলিমদের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছেন। আজ (সোমবার) পাঠা্নো বার্তায় তিনি বলেছেন, আজকের এই লড়াইয়ে এক পাশে আছে আমেরিকা ও ইসরায়েল, অন্য পাশে আছে মুসলিম ইরান এবং প্রতিরোধের শক্তিগুলো। আপনারা কোন পাশে আছেন?

‘অধিকাংশ ইসলামী সরকার ইরানের পাশে দাঁড়ায়নি’ উল্লেখ করে ড. লারিজানি বলেন, কিছু দেশ ইরানকে ‘শত্রু’ বলছে কারণ ইরান তাদের ভূখণ্ডে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করেছে—এটি অজুহাত মাত্র।

তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যই নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার একমাত্র পথ। আমেরিকা অবিশ্বস্ত, ইসরাইল শত্রু—ইরান কারও ওপর আধিপত্য চায় না, শুধু কল্যাণ কামনা করে।

আলী লারিজানির সম্পূর্ণ বার্তা পার্সটুডের পাঠকদের জন্য বাংলায় অনুবাদ করা হলো:

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

হে বিশ্বের মুসলিমগণ এবং ইসলামী দেশসমূহের সরকারসমূহ:

১. যখন কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়ে ইরান মার্কিন-ইহুদিবাদ এক প্রতারণামূলক আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। তারা ইসলামী বিপ্লবের এক মহান নেতা, বহু সাধারণ মানুষ এবং সামরিক কমান্ডারকে শহীদ করেছে। কিন্তু এর জবাবে ইরানের জনগণ জাতীয় ও ইসলামী প্রতিরোধের শক্তি দিয়ে তাদের মোকাবিলা করেছে।

২. আপনারা জানেন—খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে, তাও কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে ছাড়া কোনো ইসলামী সরকার ইরানি জাতির পাশে দাঁড়ায়নি। তবুও ইরানের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এই দুষ্ট শত্রুকে প্রতিহত করেছে। আজ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শত্রুরা নিজেরাই বুঝতে পারছে না- এই কৌশলগত অচলাবস্থা থেকে তারা কীভাবে বের হবে।

৩. ইরান বড় ও ছোট শয়তান (আমেরিকা ও ইসরায়েল)-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথেই অটল থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ইসলামী সরকারগুলোর আচরণ কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই বাণীর পরিপন্থী নয়?

যেখানে রসূল (স.) বলেছেন: “যদি কোনো মুসলিমের আর্তনাদে সাড়া না দাও, তবে তুমি মুসলিম নও।” তাহলে তোমাদের এটি কেমন ইসলাম?

৪. কিছু দেশ তো আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছে—ইরান যেহেতু তাদের দেশে থাকা আমেরিকার ঘাঁটি এবং মার্কিন-ইসরাইলি স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, তাই ইরান নাকি তাদের শত্রু! তাহলে কি ইরান নীরবে দাঁড়িয়ে থাকবে, যখন আপনার দেশের আমেরিকার ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ চালানো হবে? এসব কেবল অজুহাত। আজকের এই লড়াইয়ে এক পাশে আছে আমেরিকা ও ইসরায়েল, অন্য পাশে আছে মুসলিম ইরান এবং প্রতিরোধের শক্তিগুলো। আপনারা কোন পাশে আছেন?

৫. ইসলামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করুন। আপনারা জানেন- আমেরিকা কখনোই আপনাদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে না, আর ইসরায়েল আপনাদের শত্রু। একটু থেমে নিজেদের কথা এবং এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন। ইরান আপনাদের কল্যাণই কামনা করে এবং আপনাদের ওপর আধিপত্য কায়েম করার কোনো ইচ্ছা রাখে না।

৬. সমগ্র শক্তি নিয়ে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যই সব দেশের জন্য নিরাপত্তা, অগ্রগতি এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।

 

আল্লাহর বান্দা

আলী লারিজানি 

পার্সটুডে/এমএআর/১৬