মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে প্রথম আঘাত: ইরানের আকাশে স্টেলথ জেট লক্ষ্যবস্তু
-
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে হামলার ফুটেজ প্রকাশ করে ইরান
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইরানের কেন্দ্রীয় আকাশসীমায় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমানকে সফলভাবে আঘাত করেছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরের পর এই ঘটনা ঘটল।
আজ (বৃহস্পতিবার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৫০ মিনিটে তাদের আধুনিক ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “যুদ্ধবিমানটির চূড়ান্ত পরিণতি এখনো স্পষ্ট নয় এবং তা তদন্তাধীন রয়েছে, তবে এটি বিধ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।”
আইআরজিসি আরও জানায়, এর আগে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বাহিনীর ১২৫টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সর্বশেষ এই সফলতা দেশটির সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ও কার্যকারিতার ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানি হামলার শিকার হওয়ার পর একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পশ্চিম এশিয়ার একটি মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিশ্চিত করেছেন, পঞ্চম প্রজন্মের এই স্টেলথ জেটটি ইরানের আকাশে একটি সামরিক মিশনে ছিল এবং আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর সেটিকে অবতরণ করতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল-আমেরিকার হামলা শুরুর পর থেকে এটি প্রথমবারের মতো ইরানি বাহিনীর মাধ্যমে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ওই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল ইসলামি বিপ্লবের নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর ওপর হত্যাচেষ্টার মাধ্যমে—যা উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই এই সংঘাতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যার প্রতিটির মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৯