ট্রাম্প নৌ অবরোধ থেকে সরে দাঁড়ালেই কেবল আলোচনা অর্থবহ হবে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i158660-ট্রাম্প_নৌ_অবরোধ_থেকে_সরে_দাঁড়ালেই_কেবল_আলোচনা_অর্থবহ_হবে
পার্সটুডে- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতেরেআঞ্চলিক সমীকরণ বদলে গেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত এলাকাগুলো এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
(last modified 2026-04-22T08:26:01+00:00 )
এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০৯ Asia/Dhaka
  • ফাদাহ হোসেইন মালিকি
    ফাদাহ হোসেইন মালিকি

পার্সটুডে- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতেরেআঞ্চলিক সমীকরণ বদলে গেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত এলাকাগুলো এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি, যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ধমনী হিসেবে বিবেচিত। এই সংঘাতের ভেতর দিয়ে হরমুজ প্রনালী ইরানের শক্তি ও ক্ষমতার অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে এমনভাবে যে, এই পথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং এর ওপর কর্তৃত্ব কেবল যুদ্ধের গতিপথকেই নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনাকেও প্রভাবিত করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে, যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাকে কেবল একটি সামরিক যুদ্ধবিরতি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, বরং এটি মাঠপর্যায় ও কূটনীতির মধ্যকার একটি জটিল ব্যবস্থার অংশ যা নতুন কোনো ঘটনার প্রভাবে যেকোনো মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে, আলোচনা প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন এবং মার্কিন পক্ষের আচরণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে, ইসলামিক কাউন্সিলের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিশনের সদস্য ফাদাহ হোসেইন মালিকি এক সাক্ষাৎকারে এই ঘটনাপ্রবাহের মাত্রা এবং আলোচনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার মূল্যায়ন ব্যাখ্যা করেছেন।

আলোচনার সর্বশেষ অবস্থা উল্লেখ করে ফাদাহ হোসেইন মালিকি বলেন: প্রথম দফা আলোচনার পর যে ঘটনাপ্রবাহ ঘটেছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরস্পরবিরোধী ও আকস্মিক সিদ্ধান্তগুলো, আলোচনার টেবিলকে কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনাকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন: প্রথম দফা আলোচনায় পক্ষগুলো কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিল এবং পরবর্তী দফায় অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পক্ষগুলো তাদের নিজ নিজ রাজধানীতে প্রয়োজনীয় আলোচনা করবে বলেও পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী ও ইরানের উপকূল অবরোধ এবং এমনকি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর মার্কিন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

মালিকি আরও বলেন: এই পদক্ষেপগুলোর জবাবে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানও ঘোষণা করেছে যে যদি দেশের উপকূল অরক্ষিত হয়ে পড়ে, তবে সমগ্র অঞ্চলের উপকূল অরক্ষিত হয়ে পড়বে; এমন একটি বিষয় যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে এবং কার্যত আলোচনা প্রক্রিয়াকে ম্লান করে দিয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন: সেই অনুযায়ী, আলোচনা স্থগিত করার ইরানের সিদ্ধান্তটি একটি যৌক্তিক এবং সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, কারণ এই ধরনের পরিস্থিতিতে আলোচনা তার অর্থ ও তাৎপর্য হারায়। তবে, যদি ট্রাম্প আগামী দিনগুলোতে এই নীতিগুলো থেকে সরে আসেন এবং নৌ অবরোধ বন্ধ করেন, তাহলে ইরানি আলোচক দলের উপস্থিতি পুনরায় অর্থবহ হতে পারে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন জেনারেল আসিমের সাম্প্রতিক তেহরান সফরের সময় এই অবস্থানগুলোর বার্তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনা চায়, তবে তাকে প্রথমে নৌ অবরোধসহ ক্রমবর্ধমান পদক্ষেপগুলো বন্ধ করতে হবে এবং এই অঞ্চল থেকে তার জাহাজগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন