হরমুজ প্রণালীর চাবি ইরানের হাতে; আমেরিকা ও তার মিত্ররা রেহাই পাবে না
-
হরমুজ প্রণালী
পার্সটুডে- ইরানের সংসদীয় কমিটির সদস্য হুজ্জাতুল ইসলাম আলিরেজা সালিমি, ইরানের উপর আমেরিকার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রচেষ্টা সম্পর্কে সংসদীয় প্রতিবেদক তাবনাককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন: “প্রথমত, আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে যে, আমেরিকার নৌ অবরোধ ব্যর্থ হয়েছে।
মূলত, তারা এই ধরনের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম নয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্যদের উপর তাদের দাবি চাপিয়ে দিতে পারে না। অবশ্য, তারা সময়ে সময়ে আমাদের দেশের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে, কিন্তু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের কাছেও এর মোকাবেলা ও জবাব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের ১৫টি প্রতিবেশী দেশের সাথে সীমান্ত রয়েছে এবং এর পাশাপাশি দেশটির উত্তর ও দক্ষিণে সামুদ্রিক সীমান্ত রয়েছে। ভালো রেল নেটওয়ার্কও রয়েছে। সুতরাং, আমেরিকানরা যদি মনে করে যে তারা ইরানকে অবরোধ করতে পারবে, তবে তারা মারাত্মক ভুল করছে।
ইরানের সংসদীয় কমিটির সদস্য বলেন: "তারা হয়তো কিছু ক্ষেত্রে আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে, কিন্তু ইরান একটি শক্তিশালী দেশ।" দেশটি বিগত বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলার উপায় ভালোভাবে শিখেছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার চাহিদা মেটানোর উপায় এবং আমদানি-রপ্তানির পথগুলো ভালোভাবে জানে এবং নিঃসন্দেহে এই পরিস্থিতি ও বাধাগুলো অতিক্রম করবে।”
সালিমি জোর দিয়ে বলেন: “সামরিক ক্ষেত্রে যেমন ইরানের হাত বাঁধা নেই, তেমনি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের হাত বাঁধা নেই। আমেরিকানরা এই ক্ষেত্রেও ব্যর্থতার সম্মুখীন হবে, যেমনটা তারা অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।”
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: “বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস, হিলিয়াম এবং ইউরিয়া সারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পারস্য উপসাগরীয় সামুদ্রিক পথ দিয়ে চলাচল করে।” সুতরাং, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে আনুপাতিক জবাব দেওয়া হবে।"
ইরানের সংসদীয় কমিটির সদস্য আরও বলেন: শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয় তার সহযোগীদেরও জানা উচিত যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের সহজে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেবে না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং ভোক্তা মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে; তাই, চাপ ও নিষেধাজ্ঞার নীতিগুলো অতীতের চেয়ে তাদের জন্য আরও বেশি ক্ষতির কারণ হবে।
সালিমি উল্লেখ করেন: যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত একতরফা বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞার যুগ শেষ হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালীর সোনালী চাবি ইরানের শক্তিশালী হাতে রয়েছে এবং এই কৌশলগত পথটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।
তিনি সবশেষে বলেন, ইরানের সমস্ত সক্ষমতা এবং বিজয়ের তুরুপের তাস এখনও প্রকাশিত হয়নি। যদি ইরানের তেল রপ্তানি না করা হয়, তবে এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভাবা উচিত নয় তারা ফুজাইরার মতো বিকল্প পথ ও বন্দরের মাধ্যমে সহজেই তাদের তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে। ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে তা ব্যবহার করবে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন