বিজয়ের পথ আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ ও শাহাদাতের মধ্য দিয়েই নির্মিত হয়: কলিবফ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i160202-বিজয়ের_পথ_আত্মত্যাগ_প্রতিরোধ_ও_শাহাদাতের_মধ্য_দিয়েই_নির্মিত_হয়_কলিবফ
পার্সটুডে- ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধগুলোর শহীদদের স্মরণ করে এক বার্তায় বলেছেন, এই যুদ্ধগুলো বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিজয়ের পথ প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ এবং শাহাদাতের মধ্য দিয়েই অতিক্রম করে। তিনি বলেন, জনগণের জাগরণ ও জাতীয় ঐক্য যুদ্ধক্ষেত্রের শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করে এবং জাতিগুলোকে জাগ্রত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে।
(last modified 2026-06-10T15:15:30+00:00 )
জুন ১০, ২০২৬ ২১:০৯ Asia/Dhaka
  • ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ
    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ

পার্সটুডে- ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধগুলোর শহীদদের স্মরণ করে এক বার্তায় বলেছেন, এই যুদ্ধগুলো বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিজয়ের পথ প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ এবং শাহাদাতের মধ্য দিয়েই অতিক্রম করে। তিনি বলেন, জনগণের জাগরণ ও জাতীয় ঐক্য যুদ্ধক্ষেত্রের শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করে এবং জাতিগুলোকে জাগ্রত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে।

কলিবফ তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ১৪০৪ সালের খোরদাদ মাস এবং সাম্প্রতিক সময়ে সহযোদ্ধাদের শাহাদাত ইরানি জাতির স্মৃতিতে বিপ্লবের প্রথম দিকের বছরগুলো, নির্মম সন্ত্রাসী হামলা এবং চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের দিনগুলোকে আবারও জীবন্ত করে তুলেছে। তিনি বলেন, সেই সময় একের পর এক অনেক প্রিয় সঙ্গীকে হারাতে হলেও ইসলামী বিপ্লবের অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি; বরং আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি বলেন, এমন অনেক দীর্ঘ ও কঠিন রাত এসেছে যখন শত্রুরা জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষাকে আঘাত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই অন্ধকারের মধ্যেই এমন নক্ষত্রের জন্ম হয়েছে, যারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছে এবং জাতিকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি যুগিয়েছে।

কলিবফ বলেন, ইরানি জাতি সব প্রতিকূলতার মুখেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থেকেছে। পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের উত্তরাধিকারীরা সেই আত্মত্যাগের আলোয় পথ খুঁজে নিয়েছেন এবং এমন একটি ইরান গড়ে তুলেছেন, যা বিশ্বের বড় বড় শক্তি ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর সামনে মাথা নত করেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে প্রকৃত বিজয় অস্ত্রের শক্তিতে নয়, বরং মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সংকল্পে নিহিত।

তিনি সাম্প্রতিক সংঘাতে শহীদ হওয়া কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ ইরানের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে তিনি শহীদ বিজ্ঞানী ও জ্ঞানচর্চার অঙ্গনের ব্যক্তিত্বদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বলেন, তারা দেশের অগ্রগতি ও নিরাপত্তার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

কলিবফ মতে, আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যে এই প্রিয় ব্যক্তিদের অনুপস্থিতিতেও ইরান তার পথচলা অব্যাহত রাখবে এবং শত্রুদের মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, চূড়ান্ত বিজয়ের পথ এখনও উন্মুক্ত এবং এই সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজও সেই শহীদরা ইরানের আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জাতিকে পথ দেখাচ্ছেন এবং দেশের নেতৃত্বের নির্দেশনার আলোকে জনগণকে সঠিক পথে পরিচালিত করছেন।

কলিবফ জোর দিয়ে বলেন, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বিশ্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে—বিজয় ও সাফল্যের পথ প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও শাহাদাতের মধ্য দিয়ে যায়। যখন জনগণ সচেতন ও সক্রিয় হয় এবং জাতীয় ঐক্য যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনে শক্তিশালী সমর্থন গড়ে তোলে, তখন তা জাতিগুলোকে জাগ্রত করে এবং তাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে।

তিনি বলেন, যখন লক্ষ্য পরিষ্কার থাকে এবং ঐশী প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা থাকে, তখন আত্মত্যাগ কখনও বৃথা যায় না। যেমন ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের আত্মত্যাগ ইসলামের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেছে, তেমনি শহীদ কমান্ডার, বিজ্ঞানী ও অন্যান্য শহীদদের আত্মত্যাগও এই পথের ধারাবাহিকতা এবং চূড়ান্ত বিজয়ের নিশ্চয়তা বহন করে।

কলিবফ বলেন, এর স্পষ্ট প্রমাণ হলো আজকের ইরান। বহু কমান্ডার ও বিজ্ঞানী শাহাদাতবরণ করলেও দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়নি, প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধক্ষমতাও দুর্বল হয়নি। বরং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দৃঢ়তা ও দ্রুততার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে।

বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ইরানের মর্যাদা, ইসলামের স্থায়িত্ব এবং বিশ্বের বিভিন্ন জাতির জাগরণ এই প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরশীল। তিনি সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইরানের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি, মর্যাদা এবং জনগণের দৃঢ়তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।#
 

পার্সটুডে/এমবিএ/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।