বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের নানা বৈষম্য নিয়ে ফিফার কাছে ইরানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i160496-বিশ্বকাপে_যুক্তরাষ্ট্রের_নানা_বৈষম্য_নিয়ে_ফিফার_কাছে_ইরানের_আনুষ্ঠানিক_অভিযোগ
বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিতে যাচ্ছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
(last modified 2026-06-19T13:11:53+00:00 )
জুন ১৯, ২০২৬ ১৯:০৫ Asia/Dhaka
  • বিশ্বকাপে ইরানি ফুটবল দল
    বিশ্বকাপে ইরানি ফুটবল দল

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিতে যাচ্ছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা (এএফপি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর প্রবেশ নিয়মের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইরানি ফুটবল কর্তারা। তাদের দাবি, এই বিধিনিষেধগুলোর কারণে বিশ্বকাপ ম্যাচের জন্য জাতীয় দলের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান জাতীয় দল মেক্সিকোর টিজুয়ানায় তাদের ক্যাম্প স্থাপন করেছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি খেলার জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে তারা বেশ কিছু বিধিনিষেধের সম্মুখীন হয়েছে। ইরান দল ম্যাচের দুই দিন আগেই লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছাতে চেয়েছিল, যাতে সেখানকার আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং শেষ মুহূর্তের অনুশীলনগুলো ঠিকঠাক করার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র বলেছেন, দলের প্রস্তুতির পুরো পরিকল্পনা অনেক আগেই আয়োজকদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু এই বিধিনিষেধগুলোর কারণে কোচিং স্টাফরা সময়সূচি অনুযায়ী তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তাই ম্যাচের দুই দিন আগে ভেন্যুতে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। আর এই কারণেই ইরান আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিফার কাছে তাদের প্রতিবাদ জানাবে।

চলতি টুর্নামেন্টে ইরানের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করার পর, সেই রাতেই ইরান দলকে লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে মেক্সিকোতে তাদের নিজস্ব ক্যাম্পে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই বিষয়টি দলের খেলোয়াড়দের ক্লান্তি দূর করা (রিকভারি) এবং পরবর্তী প্রস্তুতির প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এই সমস্ত বিধিনিষেধের কথা আগেই ইরান ফুটবল ফেডারেশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি 'সিবিএস' নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান শুরু থেকেই জানত যে, তারা ম্যাচের মাত্র একদিন আগে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি পাবে এবং প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেই রাতেই তাদের দেশের মাটি ছাড়তে হবে। তাঁর মতে, সিয়াটেলে মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্যও এই একই নিয়ম কার্যকর থাকবে।

এএফপি’র প্রতিবেদনে এই বিশ্বকাপে ইরানের মুখোমুখি হওয়া আরও কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় দল প্রথমে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুসান শহরে তাদের ক্যাম্প করতে চেয়েছিল, কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই তারা মেক্সিকো সীমান্তের টিজুয়ানায় তাদের আস্তানা স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। এছাড়া, ইরানের প্রতিনিধি দলের সর্বোচ্চ ১১ জন সদস্যকে আমেরিকার প্রবেশের জন্য ভিসাও দেওয়া হয়নি; যা দলটির কর্মকর্তাদের মতে, তাদের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে মাঠের বাইরের সমস্যাকেও আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা বিশ্বকাপে ইরানের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৯