ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে দ্বিগুণ গতি, সামনে ৩–৫ গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i162410-ইরানের_প্রতিরক্ষা_উৎপাদনে_দ্বিগুণ_গতি_সামনে_৩_৫_গুণ_বাড়ানোর_পরিকল্পনা
পার্সটুডে: ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালয়ি-নিক বলেছেন, আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার মোকাবিলার একমাত্র পথ হলো শক্তিশালী হওয়া। তিনি জানান, গত এক বছরে যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণ করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ৩ থেকে ৫ গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
(last modified 2026-08-22T10:08:21+00:00 )
আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৫:৫৯ Asia/Dhaka
  • ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালয়ি-নিক।
    ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালয়ি-নিক।

পার্সটুডে: ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালয়ি-নিক বলেছেন, আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার মোকাবিলার একমাত্র পথ হলো শক্তিশালী হওয়া। তিনি জানান, গত এক বছরে যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণ করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ৩ থেকে ৫ গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

ইরানের টেলিভিশনে শুক্রবার রাতে একটি বিশেষ সংবাদ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং ইরানি-ইসলামি পরিচয় রক্ষার প্রধান কৌশল হলো জাতীয় শক্তি অর্জন। আর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জাতীয় শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

তিনি আরও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার দিক থেকে ইরান বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে এবং ড্রোন প্রযুক্তিতেও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। বিপ্লবের আগে ইরান তার প্রায় ৯০ শতাংশ সামরিক সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করত। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করে দেশটি উন্নত ও দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন করছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব অস্ত্রের উৎপাদন ব্যয় বিদেশি সমমানের অস্ত্রের তুলনায় মাত্র এক-দশমাংশ থেকে এক-বিশমাংশ।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন কৌশলগত অস্ত্রের মজুত ও গোলাবারুদের ঘাটতির মতো সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি, তখন ইরানের বিস্তৃত উৎপাদন নেটওয়ার্ক, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন তিন গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে দেশটির সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন যুদ্ধে গোপন সহায়তা বাদ দিলে প্রতিপক্ষের সামরিক বাজেট ইরানের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি ছিল। তা সত্ত্বেও দেশীয় প্রযুক্তি, জ্ঞানভিত্তিক শিল্প এবং প্রতিরক্ষা অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে ইরান প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রতিরক্ষা শিল্পে জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তালায়ি-নিক বলেন, ইরানের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দেশীয় জ্ঞানভিত্তিক কোম্পানিগুলো উৎপাদন করে। গত এক বছরে এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ শতাংশ এবং তাদের সঙ্গে সহযোগিতার পরিমাণ ৭০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গবেষণা প্রকল্পগুলোর ৭৬ শতাংশই বাস্তব পণ্যে রূপ নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, শত্রুকে চমকে দিতে ইরান সামরিক প্রদর্শনী আয়োজন ও নতুন অস্ত্র উন্মোচন স্থগিত রেখেছে। ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং প্রতিপক্ষকে আকস্মিকভাবে চমকে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্যের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৩ থেকে ৫ গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।#
 

পার্সটুডে/এমবিএ/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন