ইরানের সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: কলিবফ
-
ইরানের ইসলামি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ
পার্সটুডে- ইরানের সংসদের স্পিকার বলেছেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। তিনি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তানীতি নির্ধারণ করে না।
পার্সটুডের প্রতিবেদনে ইরনার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ আজ রোববার সংসদের প্রকাশ্য অধিবেশনে এসব কথা বলেন।
কলিবফ বলেন, আমরা ঐতিহাসিক ৭ অক্টোবরের ঘটনার বার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যা এই অঞ্চলের ইতিহাসকে ৭ অক্টোবরের আগে ও পরের দুই অধ্যায়ে ভাগ করে দিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ইসরাইলিদের কথিত ভঙ্গুর নিরাপত্তার ধারণাকে তাদের জন্য স্থায়ী আতঙ্কে পরিণত করেছিলেন।
তিনি বলেন, শহীদ ইমাম সেই সময়ের প্রথম দিকেই বলেছিলেন, ৭ অক্টোবর ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর যে পরাজয় হয়েছে, তা অপূরণীয়। সময়ের সঙ্গে আজ এই সঠিক কৌশলগত বিশ্লেষণের বিভিন্ন দিক বিচক্ষণ বিশ্লেষকদের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অপূরণীয় পরাজয়ের অর্থ হলো- যে ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী কয়েক দশক ধরে নিজেকে নিপীড়িত পক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছে, আজ বিশ্ব জনমতের কাছে তা উন্মোচিত ও কলঙ্কিত হয়েছে। এর ফলে আধিপত্যবাদী সরকারগুলোর জন্য এই শাসকগোষ্ঠীকে বিপুল সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এর ভবিষ্যৎ স্থায়িত্বও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
ইরানের সংসদ স্পিকার আরও বলেন, যে শাসকগোষ্ঠী বছরের পর বছর নিজেদের সর্বাত্মক প্রতিরোধক্ষমতা ও অপ্রবেশযোগ্য গোয়েন্দা সক্ষমতার দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে, আজ তারা একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু সংকটে আটকে পড়েছে। তাদের পরিচয় ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বোমাবর্ষণ ও অপরাধযজ্ঞের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভিত্তি পুনর্গঠন করা যায় না। এমনকি নজিরবিহীন মার্কিন সমর্থন পেয়েও এই শাসকগোষ্ঠী সেই পরাজয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি; বরং তারা সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
কলিবফ বলেন, শুধু ইসরাইলিরাই যে হতাশা ও অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছে তা নয়, ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার মুখে মার্কিনিরাও অসহায় হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও সম্প্রতি তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি বলেন, তবে তাদের বুঝতে হবে-সময়ক্ষেপণ করে একতরফাভাবে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও চূড়ান্ত। ইসলামাবাদ সমঝোতা অনুযায়ী আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এমন কোনো দেশ নয় যে মার্কিন কর্মকর্তাদের টুইট বা প্রতিদিনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তার কৌশলগত নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নির্ধারণ করবে। আমরা শত্রুর প্রকৃত আচরণ ও বাস্তব পদক্ষেপকেই আমাদের কর্মনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করি; গণমাধ্যমে দেওয়া কথাবার্তা কিংবা মিথ্যা প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যকে নয়।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।