নিরাপত্তা সহযোগিতা শক্তিশালী করবে ইরান, রাশিয়া ও পাকিস্তান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i56404-নিরাপত্তা_সহযোগিতা_শক্তিশালী_করবে_ইরান_রাশিয়া_ও_পাকিস্তান
অন্যান্য আঞ্চলিক দেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা সম্মেলনের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও পাকিস্তান। রাশিয়ার সোচি শহরে তিন দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবদের এক বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
এপ্রিল ২৭, ২০১৮ ১০:৪০ Asia/Dhaka

অন্যান্য আঞ্চলিক দেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা সম্মেলনের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও পাকিস্তান। রাশিয়ার সোচি শহরে তিন দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবদের এক বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই প্যাতরোশেভ এবং পাক প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল নাসির খান জানজুয়ার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক থেকে এশিয়া অঞ্চলে আমেরিকার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা প্রতিহত করার জন্য এ মহাদেশের সংশ্লিষ্ট সবদেশের মধ্যে সার্বিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

রাশিয়ার সোচি শহরে বিশ্বের পাঁচ দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নবম সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে রাশিয়া যান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে সোচি ত্যাগ করার আগে সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন সরকার সিরিয়া ও ইরাক থেকে সন্ত্রাসবাদকে আফগানিস্তানে স্থানান্তর করতে চায়। কিন্তু এই অশুভ তৎপরতা প্রতিহত করতে এশিয়ার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশকে সার্বিক সহযোগিতা করবে ইরান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সন্ত্রাসবাদের মতো যৌথ হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা জরুরি। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে টেকসই শান্তি শীর্ষক এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এ সম্পর্কে বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে অগ্রগামী দেশ হিসেবে ইরান এক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে।

সোচি নিরাপত্তা সম্মেলনে অ্যাডমিরাল আলী শামখানি

অ্যাডমিরাল শামখানিও সোচি শহরে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল নাসির খান জানজুয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে সন্ত্রাসবাদ দমনে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের দু’টি প্রভাবশালী দেশ হিসেবে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যত বিনির্মাণে ইরান ও পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য রয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার গত কয়েক দশকের ঘটনা বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক এ উদ্দেশ্যেই সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকট জিইয়ে রাখার এবং ইরান-ভীতি ছড়িয়ে দেয়ার অপপ্রয়াসে লিপ্ত রয়েছেন।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি এ সম্পর্কে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের হোতা পাশ্চাত্য এবং তাদের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপে এসব সংকট জটিলতর হচ্ছে। এতে ইন্ধন যোগাচ্ছে এ অঞ্চলের কিছু পদলেহী, পরনির্ভরশীল ও নির্বোধ স্বৈরশাসক।

নিঃসন্দেহে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সার্বিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে এবং যতক্ষণ এ অঞ্চলের কিছু শাসক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পাশ্চাত্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে ততক্ষণ সন্ত্রাসবাদ, সংঘাত ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকবে। ঠিক এ কারণেই ইরান সব সময় প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা শক্তিশালী করার আহ্বান জানাচ্ছে। আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে ইরান, রাশিয়া ও পাকিস্তন যে নিরাপত্তা সম্মেলনের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে এরই আলোকে মূল্যায়ন করা যায়।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৭