ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল: একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে আমেরিকা
ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুন নাসের হেম্মাতি বলেছেন, সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করবে।
তিনি ইরানের দুই নম্বর টিভি চ্যানেলে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অবৈধ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে ইরানে বৈদেশিক মুদ্রার নয়া প্যাকেজ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আরো বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কোনো ঘাটতি নেই। এ ছাড়া, সরকার ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীসহ জরুরি পণ্য আমদানিকারকদের সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দেবে বলে তিনি জানান।
এর আগে আমেরিকা ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার জন্য এসব নিষেধাজ্ঞা বলবত করলেও তারা ইরানকে কাবু করতে পারেনি বরং এর ফলে দেশটির অর্থনীতির নানা ভিত্তি মজবুত হয়েছে। আমেরিকা এমন সময় আগামীকাল থেকে ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা বলবত করতে যাচ্ছে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইরানও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের জনগণ ভালো করেই জানে বিদ্বেষী স্বভাবের কারণে আমেরিকা আন্তর্জাতিক সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। শুধু ট্রাম্প প্রশাসন নয় আমেরিকার সব সরকারই ইরানের সঙ্গে শত্রুতা করে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড্যান গ্ল্যাজিব্রোক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শত্রুতার কারণ স্পষ্ট। তিনি বলেন," ইরানের মতো একটি স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা বলে আমেরিকা মনে করে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একদিকে আমেরিকার সামরিক শক্তির দুর্বলতা প্রকাশ পাবে অন্যদিকে বিশ্বে মার্কিন ডলারের দাপট কমে যাবে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানকে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞাসহ এ পর্যন্ত বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসতে হয়েছে। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতেও তিনি তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইরান এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। যেমন, ডলার বাদ দিয়ে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করা হয়েছে। ইরানকে কাবু করতে আমেরিকার সব প্রচেষ্টাই এ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের শক্তিশালী অবস্থান ও দেশটির গ্রহণযোগ্যতা আমেরিকার জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাচীন 'সিল্ক রোড' পুনরুজ্জীবনের মতো বড় বড় প্রকল্প উন্নয়নে ইরানের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া, হরমুজগান ও বাব আল মান্দাব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পানিপথের ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকার বলদর্পিতার দিন শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা গড়ে উঠেছে এবং আমেরিকাকে অবশ্যই এ বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। এর অন্যথায় আমেরিকাকে একঘরে হয়ে থাকতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সারা বিশ্বের দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এতে করে কেবল আমেরিকার ভাবমর্যাদাই ক্ষুন্ন হয়েছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬