মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব বাজারে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে: আইইএ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i64315-মার্কিন_তেল_নিষেধাজ্ঞা_বিশ্ব_বাজারে_বিপর্যয়_সৃষ্টি_করতে_পারে_আইইএ
মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করতে উৎসাহিত করার জন্য ইউরোপের ছোট ছোট কোম্পানিগুলোর বাজার অনুসন্ধানের চেষ্টার পাশাপাশি ইরানের তেল আমদানিকারক দেশগুলোর সঙ্গেও আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন এসব নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তকটুকু প্রভাব ফেলবে এবং আমেরিকা আদৌ ইরানের তেল বিক্রির পরিমাণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮ ১৪:২৮ Asia/Dhaka

মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করতে উৎসাহিত করার জন্য ইউরোপের ছোট ছোট কোম্পানিগুলোর বাজার অনুসন্ধানের চেষ্টার পাশাপাশি ইরানের তেল আমদানিকারক দেশগুলোর সঙ্গেও আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন এসব নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তকটুকু প্রভাব ফেলবে এবং আমেরিকা আদৌ ইরানের তেল বিক্রির পরিমাণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববাজারে ইরানের তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশের পক্ষে সে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি হোসেইন কাজেমপুর আরদাবিলি বলেছেন, ইরানের তেল রপ্তানির ব্যাপারে এই ঘোষণা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে আমেরিকা। তিনি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাতকারে আরো বলেছেন, বিশ্বের কোনো তেল উৎপাদনকারী দেশ দীর্ঘমেয়াদে অন্য দেশের তেলের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম নয়।

হোসেইন কাজেমপুর আরদাবিলি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮মে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা বলবত করেন। পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ দেশটির তেল বিক্রির পরিমাণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার নির্দেশ দেন।

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে এখনো দুই মাস বাকি রয়েছে। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৮০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন সরকার গত ২০ আগস্ট ঘোষণা করে, ইরানের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞার প্রভাব যাতে বিশ্ববাজারে না পড়ে সেজন্য আমেরিকা জরুরি তেলের মজুদ থেকে এক কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছেড়ে দেবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ঘোষণা করেছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব বাজারে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তেল নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বর্তমান স্থিতিশীল অবস্থা ধরে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। আমেরিকার জ্বালানিমন্ত্রী রিক প্যারি রয়সার্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, "সৌদি আরব ও কুয়েত দ্রুত সীমান্ত বিরোধ মিটিয়ে ফেলবে এবং তারা সীমান্তের অভিন্ন তেল ক্ষেত্র থেকে তেল উত্তলনের কাজ শুরু করবে বলে আমরা আশা করছি যাতে বিশ্বে জ্বালানি ঘাটতি দেখা না দেয়।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আমেরিকা কতটুকু সফল হবে তা নির্ভর করছে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্ত ও ইরানের তেল ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়ার ওপর। কিন্তু এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তা আমেরিকার অনুকূল নেই। তাদের মতে, বিশ্বের দেশগুলো নিজ স্বার্থের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবে। কারণ তেলের বাজার অনেক জটিল হওয়ার কারণে এর অনেক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪