ইরানের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে: আইইএ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i65385-ইরানের_বিরুদ্ধে_তেল_নিষেধাজ্ঞা_বিশ্ব_অর্থনীতিতে_ভয়াবহ_প্রভাব_ফেলবে_আইইএ
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ'র প্রধান ফাতিহ বিরোল ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন একতরফা জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এর ভয়াবহ প্রভাবের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ২৮, ২০১৮ ১৫:৫১ Asia/Dhaka

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ'র প্রধান ফাতিহ বিরোল ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন একতরফা জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এর ভয়াবহ প্রভাবের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিশ্বে তেলের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় ইরানকে বাদ দিয়ে সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আইইএ'র প্রধান তেলের বাজারকে রাজনৈতিকীকরণ করার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বিশ্ব বাজারে তেলের চাহিদা বাড়তে থাকায় তেলের দামও বেড়ে যাওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে যা কিনা সারা বিশ্বের অর্থনীতির ওপর খারাপ প্রভাব ফেলবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কয়েকটি কারণে বিশ্বে তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্রথমত, শীত মৌসুম এসে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই তেলের চাহিদা বেড়ে যাবে এবং ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞার ফলে সেই চাহিদা পূরণ করার মতো অবস্থা কোনো দেশের নেই। ফলে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে না। দ্বিতীয়ত, হঠাৎ তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবার মধ্যে একধরনের উদ্বেগ দেখা দেবে যার প্রভাব পড়বে তেলের চাহিদার ওপর।

আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া ছাড়াও অন্য দেশের সঙ্গে ইরানের ব্যাংকিং সহযোগিতা বন্ধ করারও চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে তেল বিক্রি বাবদ কোনো অর্থ ইরান না পায়। এরইমধ্যে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় এবং সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম বর্তমানে ৮৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তেলের এই মূল্য বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ অবস্থায় ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমেরিকা কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পিটার হ্যারল বলেছেন, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে না পড়ে কিংবা এ প্রভাবের মাত্রা যাতে কম হয় সেজন্য মার্কিন সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন সময় তিনি এসব কথা বলেছেন, যখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বে তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে তেলের উৎপাদন অনেক কমে এসেছে। এ অবস্থায় ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন শুরু হলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে এবং তেলের মূল্য বেড়ে যাবে যার ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়বে সারা বিশ্বের অর্থনীতির ওপর। এদিকে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, মার্কিন সরকার এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ খুব বেশী হলে তেল বিক্রির পরিমাণ দৈনিক সাত লাখ থেকে দশ লাখ ব্যারেলে কমিয়ে আনা যেতে পারে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সামান্য ঘটতিও বিশ্ব তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করবে এমনকি মার্কিন সরকারও এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না। এর পরিণতির ব্যাপারে মার্কিন রাজনীতিবিদরাও সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮