পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে স্বাধীন নীতি ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম শ্লোগান: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i68388-পররাষ্ট্র_ক্ষেত্রে_স্বাধীন_নীতি_ইসলামি_বিপ্লবের_অন্যতম_শ্লোগান_ইরানের_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ "ইরানের পররাষ্ট্র নীতির নানা দিক, সক্ষমতা ও কৌশল" শীর্ষক এক সেমিনারে পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে স্বাধীন নীতিকে ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান শ্লোগান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ ১৫:৫৯ Asia/Dhaka
  • মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ
    মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ "ইরানের পররাষ্ট্র নীতির নানা দিক, সক্ষমতা ও কৌশল" শীর্ষক এক সেমিনারে পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে স্বাধীন নীতিকে ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান শ্লোগান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা ভেতর থেকে আসতে হবে এবং এর অর্থ এই না যে আমরা দুনিয়া বিমুখ হয়ে যাব এবং অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা থেকে বিরত থাকব। এই চলার পথ অত্যন্ত কঠিন উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামরিকসহ অন্যান্য শক্তি অর্জনের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের কথা বলেন। তিনি বলেন, এই দুই ক্ষেত্রেই ইরান ভালভাবে এগিয়ে গেছে।

গত দুই দশকে পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলীর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রচণ্ড আপত্তি ও বিরোধিতা উপেক্ষা করে পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে ইরানের স্বাধীন নীতি নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ কারণে ইরাক, সিরিয়া, লেবাননসহ পশ্চিম এশিয়ার নানা সংকট মোকাবেলায় ইরান সফল হয়েছে এবং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান ও গুরুত্বকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে ইরানের সুবিধাজনক অবস্থান এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে ইরানকে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে এবং বহু দেশের সঙ্গে গঠমূলক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সিরিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ ও দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজিত করা এবং পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজাখস্তানে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের বৈঠক ও এ ব্যাপারে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা রয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার বিরুদ্ধে আমেরিকা, সৌদি আরব ও দখলদার ইসরাইলের ষড়যন্ত্র সত্বেও বর্তমানে এ অঞ্চলের সংকট প্রায় সমাধানের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এটাকে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এই পরিবর্তন বা সাফল্য এ অঞ্চলে আমেরিকার একতরফা নীতির মোকাবেলায় শক্তির ভারসাম্য এনে দিয়েছে।  

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহির উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি সাম্রাজ্যবাদ মোকাবেলায় জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে বলেছেন, "এ অঞ্চলের ব্যাপারে আমেরিকা সামান্যতম সিদ্ধান্ত নেয়ারও ক্ষমতা রাখে না বরং ইরানই যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে। যার অর্থ হচ্ছে আমেরিকার পরাজয়।" সম্প্রতি ওয়ারশ সম্মেলনে আমেরিকা ইরানের মোকাবেলায় নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তেহরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু নানা কারণে আমেরিকা ব্যর্থ হয়েছে।

তেহরান সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ এ ব্যাপারে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা কৌশলগত যে ব্যর্থতা ডেকে এনেছে তা হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ছয়টি প্রস্তাব তারা হাত ছাড়া করেছে। আমেরিকা গত এক বছরে নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে এ পর্যন্ত চারবার ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ ওয়ারশ সম্মেলনেও ব্যর্থ হওয়ার পরও তাদের চেষ্টা থেমে নেই। #  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫