"আমেরিকার মোকাবিলায় ইরানি জনগণ সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে"
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i70410-আমেরিকার_মোকাবিলায়_ইরানি_জনগণ_সর্বাত্মক_প্রতিরোধ_গড়ে_তুলবে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আমেরিকার ইরান বিরোধী নানা তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমেরিকার মোকাবিলায় ইরানি জনগণ সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ও তিন বাহিনীর প্রধানগণসহ দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মে ১৫, ২০১৯ ১৪:০১ Asia/Dhaka
  • আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী
    আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আমেরিকার ইরান বিরোধী নানা তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমেরিকার মোকাবিলায় ইরানি জনগণ সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ও তিন বাহিনীর প্রধানগণসহ দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন।

সর্বোচ্চ নেতা ইরানের কর্মকর্তাদেরকে আত্মসমর্পণ করা, দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং ইসলামি শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে জনগণের দূরত্ব সৃষ্টির জন্য মার্কিন নোংরা ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "শত্রুর মোকাবেলায় আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। হয় আমাদেরকে পিছু হটতে হবে যার অর্থ হচ্ছে শত্রুর অগ্রসরতা। অথবা শক্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি যেখানেই শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি সেখানেই আমরা সফল ও বিজয়ী হয়েছি।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এসব বক্তব্য শত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনামূলক। আমেরিকা পাগলামিপূর্ণ নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে এ অঞ্চলে তার অনুগত স্বৈরসরকারগুলোকে ব্যবহার করে ইরানকে ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু ইরানি জাতি চাপিয়ে দেয়া আট বছরের যুদ্ধের ইতিহাস  যেমন দেখেছে তেমনি বর্তমানে মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনের ঘটনাবলীও প্রত্যক্ষ করছে। বিশ্বব্যাপী আমেরিকার দাপট ও শক্তিসামর্থ্য কমে আসার বহু আলামত এরই মধ্যে ফুটে উঠেছে  এবং গত ৪০ বছরের তুলনায় আমেরিকা এখন অনেক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ ব্যাপারে বলেছেন, মার্কিন সরকারের মধ্যে উত্তেজনা, হতাশা ও পরস্পর বিরোধী অবস্থান এবং সামাজিক অস্থিরতা থেকে তাদের দুর্বলতার বিষয়টি ফুটে ওঠে। তিনি মার্কিন সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রকাশিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, আমেরিকায় ২২ লাখ মানুষ কারাবন্দি হয়ে আছে। এ সংখ্যা অন্য দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহার হয় সেখানে। প্রতিনিয়ত গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকার বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনার অর্থ হচ্ছে বিষ পান করা। তিনি আরো বলেন, আমাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে তাদের আপত্তি। তারা চায় আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমিয়ে ফেলি যাতে তারা আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা তাদের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাতে না পারি। কিন্তু ইরানের কেউই আমেরিকার এ দাবি মেনে নেবে না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানি জনগণ মনে করে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করে কিংবা পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে ইউরোপের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। বরং অভ্যন্তরীণ শক্তি-সামর্থ্যের ওপর ভর এবং নিজস্ব সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। #     

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫