আমেরিকার শত্রুতা চরমে: 'আকাঙ্ক্ষার সংঘাতে' ইরান সবসময়ই বিজয়ী
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, "তার দেশের শত্রুরা সীমা রেখার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। যদিও তাদের বাহ্যিক অবস্থা জাঁকজমকপূর্ণ কিন্তু তারা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে রয়েছে।"
আইআরজিসি কমান্ডারদের এক বৈঠকে জেনারেল সালামি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির জন্য শত্রুরা যুদ্ধক্ষেত্রে এসেছে তাদের সমস্ত সক্ষমতা নিয়ে। শত্রুরা সব ধরনের উপায় অবলম্বন করে ইরানি জাতিকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে আবারো ব্যর্থ হবে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর গত এক বছরে ইসলামি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার শত্রুতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আমেরিকা ইরানকে আত্মসমর্পণ ও আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর মাধ্যমে পরমাণু বিষয়টি ছাড়াও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পশ্চিম এশিয়ায় দেশিটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে কথা বলতে চান।
গত বছর ৮মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে দাবি করেন এই চুক্তিতে ত্রুটি রয়েছে এবং আরো অনেক বিষয় এতে সন্নিবেশিত করা হয়নি। ইরানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য দখলদার ইসরাইল ও কয়েকটি আরব দেশের সহযোগিতায় আমেরিকা ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছে। ওয়াশিংটন ইরানকে এ অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশকে দুধ দেয়া গাভীতে পরিণত করেছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরান বিরোধী জোট গঠনের চেষ্টা করছে যদিও এই জোট এর আগে ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ইরানের নেতৃত্বে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়তে থাকায় এবং দেশটি ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য সমরাস্ত্রে শক্তিশালী হয়ে ওঠায় আমেরিকা ও তার মিত্ররা খুবই ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এ কারণে সম্প্রতি তারা ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গত মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও সেনা কমান্ডারদের এক সমাবেশে বলেছেন, শত্রুর মোকাবেলায় আমাদের একমাত্র পথ হচ্ছে, সব ক্ষেত্রে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া এবং আমেরিকার বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার অর্থ হচ্ছে বিষপান। তিনি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের কোনো যুদ্ধ হবে না বরং চলমান উত্তেজনাকে তিনি ‘আকাঙ্ক্ষার সংঘাত' হিসেবে উল্লেখ করেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শত্রুতা ইসলামি বিপ্লবকে একটি স্পর্শকাতর অবস্থানে নিয়ে এসেছে। কিন্তু গত ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে 'আকাঙ্ক্ষার সংঘাতে' ইরান সবসময়ই বিজয়ী হয়েছে। ইরানের জনগণের সচেতনতা, বিচক্ষণতা ও প্রতিরোধকামী মনোভাব আমেরিকার সব ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। আমেরিকা বর্তমানে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির যে নীতি নিয়েছে তাও ব্যর্থ হবে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৬