জলপথের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিতে হবে: ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i71980-জলপথের_নিরাপত্তা_রক্ষার_দায়িত্ব_এ_অঞ্চলের_দেশগুলোকেই_নিতে_হবে_ইরান
ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিঈ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জলপথের নিরাপত্তার দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিতে হবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেছেন, ব্রিটিশদের উচিত যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর পরিবর্তে জলপথের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপরই ছেড়ে দেয়া। কারণ এতে করে এ অঞ্চলের জলপথের নিরাপত্তা ভালভাবে নিশ্চিত করা যাবে।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
জুলাই ১৫, ২০১৯ ১৪:৫৭ Asia/Dhaka
  • ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিঈ
    ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিঈ

ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিঈ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জলপথের নিরাপত্তার দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিতে হবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেছেন, ব্রিটিশদের উচিত যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর পরিবর্তে জলপথের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপরই ছেড়ে দেয়া। কারণ এতে করে এ অঞ্চলের জলপথের নিরাপত্তা ভালভাবে নিশ্চিত করা যাবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশ্বের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উত্তেজনাপূর্ণ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরে ব্রিটেনের সামরিক উপস্থিতি অশুভ লক্ষণ। তাদের মতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও মধ্যপ্রাচ্যে তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোর প্রতি লন্ডনের লোলুপ দৃষ্টি এরই আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে এর পাশাপাশি গত বেশ ক'বছর ধরে এ অঞ্চলে ব্রিটেনের সামরিক উপস্থিতি সবার নজর কেড়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ২০১৬ সালে তেহরানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি'র শীর্ষ সম্মেলনে এ অঞ্চলে ব্রিটেনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ব্রিটিশরা নির্লজ্জভাবে ইরানকে এ অঞ্চলের জন্য হুমকি বলে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু সবারই  এটা জানা আছে যে, ইরান নয় বরং ব্রিটিশরাই গত ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের জাতিগুলোর জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে এনেছে। তারা এ অঞ্চলের জাতিগুলোর জন্য যে ক্ষতি ডেকে এনেছে তা নজিরবিহীন।

বর্তমানেও ইরানের তেলবাহী জাহাজ আটকসহ দেশটির বিরুদ্ধে ব্রিটেনের কর্মকর্তাদের বিদ্বেষী নানা আচরণ থেকে এ অঞ্চলে তাদের হস্তক্ষেপের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। ব্রিটিশ নৌ বাহিনী গত ৪ জুলাই জিব্রাল্টার প্রণালীতে আন্তর্জাতিক পানি সীমায় বেআইনিভাবে ইরানের তেল ট্যাংকার আটক করে। ইরান সরকারের মুপখাত্র এ ব্যাপারে বলেছেন, ব্রিটেনের ওই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তেহরান আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

গত শনিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমেরি হান্টের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ তেল ট্যাংকার আটকের ঘটনাকে বেআইনি অভিহিত করে বলেছেন, যেকোনো মূল্যে ইরান তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখবে।

ব্রিটেন সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০০১ ও ২০০৩ সালে আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন হামলায় ব্রিটেনের অংশগ্রহণ, ওই দেশটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন প্রভৃতি থেকে বোঝা যায় লন্ডন এ অঞ্চলে তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও প্রভাব বিস্তারের জন্য ব্রিটেন বাহরাইনে নৌ ঘাঁটি স্থাপন করেছে। ওমানে ইরানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আলী আকবর বিসিভিয়ে ইরানি কূটনীতিকদের এক সমাবেশে বলেছেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর নিজের অর্থনৈতিক ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নতুন বাজার খোজার চেষ্টা করছে।

যাইহোক, অতীত অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে এ অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোকেই নিতে হবে। কারণ বিদেশিদের হস্তক্ষেপে কেবল নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করবে।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫