ইউরোপকেও ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন জন বোল্টন
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i72166-ইউরোপকেও_ইরানের_বিরুদ্ধে_দাঁড়_করানোর_চেষ্টা_করছেন_জন_বোল্টন
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমেরিকার বিদ্বেষী নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রিটেনও ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতায় নেমেছে। গত ৪ জুলাই ব্রিটিশ নৌ বাহিনী জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে অবৈধভাবে ইরানের একটি তেল ট্যাংকার আটক করে।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
জুলাই ২২, ২০১৯ ১৪:০৬ Asia/Dhaka
  • জন বোল্টন
    জন বোল্টন

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমেরিকার বিদ্বেষী নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রিটেনও ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতায় নেমেছে। গত ৪ জুলাই ব্রিটিশ নৌ বাহিনী জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে অবৈধভাবে ইরানের একটি তেল ট্যাংকার আটক করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাহাজটি সিরিয়ার দিকে যাচ্ছিল এমন মিথ্যা অজুহাতে ব্রিটেন ওই জাহাজটি আটক করে। ইরান লন্ডনের এ পদক্ষেপকে জলদস্যুতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ব্রিটেনের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা সৃষ্টির পেছনে হোয়াইট হাউজের এমন এক ব্যক্তির হাত রয়েছে যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টিতে উৎসাহিত করছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোকেও ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। এই ব্যক্তিটি হচ্ছেন যুদ্ধবাজ হিসেবে পরিচিত মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, জন বোল্টন এখন তার বিষ ব্রিটেনের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে এবং ব্রিটেনকে চোরাবালিতে ফেলার চেষ্টা করছে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে লিখেছে, "মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন জিব্রাল্টার প্রণালীতে ইরানি তেল ট্যাংকার আটকের জন্য ব্রিটেন সরকারকে উস্কানি দিয়েছিল।"

প্রকৃতপক্ষে, ওমান সাগরে কয়েকটি জাহাজে বিস্ফোরণ ও সন্দেহজনক হামলা থেকে শুরু করে জিব্রাল্টার প্রণালীতে ইরানি তেল ট্যাংকার আটক এবং সর্বশেষ ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজের বেআইনিভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের ঘটনা থেকে বোঝা যায় পারস্য উপসাগরকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার চেষ্টা করছে বিদেশিরা। এভাবে উত্তেজনা সৃষ্টির পাশাপাশি পাশ্চাত্যের কয়েকটি গণমাধ্যম মার্কিন জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার মিথ্যা দাবিকে সত্য প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। ইরান একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করে প্রমাণ করেছে তাদের কোনো ড্রোন খোয়া যায় নি। ইরানের এ পদক্ষেপের ফলে মার্কিন মিথ্যাচার ধরা পড়ে।

এদিকে, বেআইনি তৎপরতার ফলে ইরান গত শুক্রবার হরমুজ প্রণালী থেকে ব্রিটেনের একটি ট্যাংকার আটক করে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র রমজান শরীক বলেছেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের তোয়াক্কা না করে  ব্রিটিশ জাহাজ হরমুজ প্রণালীর উল্টো দিকে চলায় অন্য কয়েকটি ছোট জাহাজে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। এসব কারণে আইআরজিসি ব্রিটিশ জাহাজটিকে আটক করে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ব্রিটেনের নৌবাহিনী বেআইনিভাবে জিব্রাল্টার প্রণালীতে ইরানি জাহাজ আটক করলেও ইরান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ব্রিটিশ জাহাজ আটক করেছে। তিনি নিউইয়র্কে বলেছেন, ইরান পারস্য উপসাগর ও হরমুজগান প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং ব্রিটেনের উচিত আমেরিকার অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদে শরীক না হতে। #      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২