জারিফের ওপর নিষেধাজ্ঞায় প্রমাণিত হয়েছে বিশ্ব অঙ্গনে ইরান প্রভাবশালী দেশ
-
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ
আমেরিকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এমনকি খোদ আমেরিকায়ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকে আবারো বিশ্বে আমেরিকার কোণঠাসা হয়ে পড়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মার্কিন এ পদক্ষেপের পর পরমাণু সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও রাশিয়া বলেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফের সঙ্গে তাদের সংলাপ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং তার সঙ্গে সহযোগিতা বজায় থাকবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন বিরোধী কর্মকাণ্ড ও একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে 'না' বলার প্রবণতা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ইরানের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া থেকেও প্রতিবাদের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ সাবই 'না' বলতে শিখেছে। বিভিন্ন ঘটনাবলীতে ইরানের যৌক্তিক অবস্থান ও গঠনমূলক কূটনৈতিক তৎপরতাকে আজ সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বলদর্পী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজের অবস্থান থেকে এ বিষয়টি ওঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও বহুপক্ষীয় শাসন ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের কারণে ইরান একটি দায়িত্বপরায়ন দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পরমাণু সমঝোতা এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হয়ে আছে যেখানে ইরান তার প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইরান দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ায় এবং দেশটি সঠিক কূটনৈতিক রীতি মেনে চলায় ট্রাম্প প্রশাসন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা আরোপ থেকে শুরু করে জারিফের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া থেকে প্রমাণিত হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান একটি প্রভাবশালী দেশে পরিণত হয়েছে যা কিনা আমেরিকাকে চিন্তিত করে তুলেছে।
ইরানের বলিষ্ঠ বক্তব্য, জ্ঞানবিজ্ঞানে অভাবনীয় উন্নতি, কোনো একটি বিষয়ে অন্য দেশকে বোঝানোর ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফের বিশেষ ক্ষমতা বা যোগ্যতার কারণে আজ বিশ্বব্যাপী ইরানের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরকালে মার্কিন গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বলিষ্ঠ বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তেহরানের আনুগত্য ইরানের বিরুদ্ধ আমেরিকার ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় জারিফের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় প্রমাণিত হয়েছে ইরান ইস্যুতে আমেরিকা চরম অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, "জারিফকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ফেলার সাথে আমেরিকার লক্ষ্য উদ্দেশ্যের কি সম্পর্ক রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে এটা বলা যায়, নিউইয়র্কে মার্কিন গণমাধ্যমকে দেয়া জারিফের সাক্ষাতকারগুলো মার্কিন সরকারকে ক্ষুব্ধ ও বিচলিত করেছে।" জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভানচি বলেছেন, "ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাকে থামিয়ে রাখা যাবে না।" #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২