রিয়াদে পিজিসিসি সম্মেলন
পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ ধসে পড়ার অবস্থায় রয়েছে: কাতারের আমির
-
কাতারের আমির শেইখ তামিম বিন হামদ আলে সানি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি'র ৪০তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর্থ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়ার জন্য ১৯৮১ সালে পিজিসিসি গঠিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও ওমান এই পরিষদের সদস্য।
গত চার দশকে বিভিন্ন ইস্যুতে এই ছয়টি দেশের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে দেখা যায়নি বরং তাদের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছে। এমনকি মতবিরোধের জেরে কোনো দেশের পক্ষ থেকে পিজিসিসি'র শীর্ষ সম্মেলন বর্জনের ঘটনাও ঘটে। এবারের বৈঠকে কাতারের আমির শেইখ হামদ বিন জাসেম যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি ধসে পড়ার অবস্থায় রয়েছে।
পিজিসিসি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গত ৪০ বছর ধরে এই জোটের অভ্যন্তরীণ নানা সংকট নিরসনের জন্য চেষ্টা চলে আসছে। রিয়াদে অনুষ্ঠিত এবারের বৈঠকেও আগে থেকেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি প্রকট হয়ে দেখা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সংকট নিরসনে ওমান ও কুয়েতের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গোপনে সৌদি আরব সফর করেছেন। অন্যদিকে সৌদি রাজা সালমান নিজেই পিজিসিসি সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য কাতারের আমির শেইখ তামিম বিন হামদ আলে সানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু কাতারের আমির রিয়াদ সম্মেলনে যোগ না দিলেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী যোগ দিয়েছেন।
বেশ কিছু ইস্যুতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে কাতারে উত্তেজনা চলে আসছে। এ অবস্থায় সম্পর্কের উন্নয়ন ও উত্তেজনা নিরসনের জন্য শর্ত হিসেবে দোহার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর ২০১৭ সালে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে কাতার এসব নিষেধাজ্ঞার ধকল কাটিয়ে উঠতে পেরেছে এবং নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করেছে যা কিনা সৌদি আরবের জন্য ব্যর্থতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
যেমনটি সৌদি আরব ইয়েমেনের ব্যাপারেও ভুল করেছিল। সৌদি আরব ভেবেছিল মাত্র কয়েক সপ্তাহর মধ্যে ইয়েমেন দখল করে দিতে পারবে। কিন্তু তা হয়নি। কাতারের ব্যাপারেও তারা একই ভুল করেছে। সৌদি আরব ও তার মিত্রদের কাছে দোহা নতি স্বীকার তো করেনি বরং সৌদি প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে পররাষ্ট্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের স্বাধীন নীতি বজায় রেখেছে কাতার সরকার।
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আলে সানি কিছুদিন আগে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, দুর্দিনে ইরানের সহযোগিতাকে কাতার কখনোই ভুলে যাবে না। এমন সময় তিনি এ বক্তব্য দিলেন যখন সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কিংবা সম্পর্ক সীমিত করে আনার জন্য কাতারের ওপর চাপ দিচ্ছে।
এ অবস্থায় রিয়াদে অনুষ্ঠিত পিজিসিসি সম্মেলনে কাতারের আমির, ওমানের সুলতান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট যোগ না দেয়ায় রিয়াদ সম্মেলন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। গতকাল অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সৌদি আরব আবারো ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে। তবে অন্যান্য দেশ সৌদি আরবকে সমর্থন না করায় ধারণা করা হচ্ছে পিজিসিসিতে সৌদি আরব তার অবস্থান হারিয়েছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১