আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ইরানের চিঠি
-
ইসমাইল বাকায়ে হামানে
জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘ দফতরে ইরানের প্রতিনিধি ইসমাইল বাকায়ে হামানে বলেছেন, চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী থেকে কাউকে বঞ্চিত করা মানবতা বিরোধী অপরাধ। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'র প্রধান টেডরোস আদহানোমের কাছে লেখা চিঠিতে এ কথা বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, ইরানের ব্যাংকখাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে করোনা ভাইরাস মোকাবেলার জন্য জরুরি ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী আনা সম্ভব হচ্ছে না। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস অ্যান্থেনিও সম্প্রতি বলেছেন, 'করোনার প্রাদুর্ভাবে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বিচ্ছিন্নতা নয় বরং প্রয়োজন ঐক্য ও সংহতির।' গুতেরেসের এ বক্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধি ইরানসহ বিভিন্ন দেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাঈদ নামাকি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সংহতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, 'তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা গণহত্যার শামিল এবং আমেরিকার এ আচরণ সারা বিশ্বের মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য হুমকি।
জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘ দফতরে ইরানের প্রতিনিধি ইসমাইল বাকায়ে হামানে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বক্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, 'মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের জনগণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।' হেগের আদালত বলেছিল, 'আমেরিকার উচিত ইরানের বিরুদ্ধে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীসহ সব ধরনের পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া।' আদালতের এ নির্দেশের পর আমেরিকা দাবি করে ইরানে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী আমদানির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু ইরানসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আমেরিকার এ দাবিকে মিথ্যা অভিহিত করে এর তীব্র সমালোচনা করেছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলী বেমান একবলি যারেচ বলেছেন, 'আন্তর্জাতিক আইনে সুস্থতা বজায় রাখার অধিকার যেকোনো দেশের নাগরিকদের রয়েছে।'
প্রকৃতপক্ষে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে যদি কোনো দেশ খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসার মতো জরুরি পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ মস্কো থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকে 'আমাদের বিরুদ্ধে নয় বরং করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুন' শীর্ষক এক নিবন্ধে অর্থনৈতিক, ওষুধ ও চিকিৎসা খাতে মার্কিন সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটানোর জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞা সত্বেও নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান টিকে আছে এবং অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে ইরান ও আমেরিকাসহ সারা বিশ্ব করোনা ভাইরাসে জর্জরিত। এ অবস্থায় সবার পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি। এ কারণে জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘ দফতরে ইরানের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪