ইসরাইলের পাতানো ফাঁদের ব্যাপারে ট্রাম্পকে জারিফের সতর্কবাণী
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আগ্রাসন ও হস্তক্ষেপের পরিণতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে সাত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও এ অঞ্চলের ব্যাপারে তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত চার বছরের ভুলের পুনরাবৃত্তি করে চলেছেন এবং ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে এসেও অতীত ভুলের নীতিতে অটল রয়েছেন।
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক তৎপরতার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এক টুইট বার্তায় বলেছেন ‘ইরান যুদ্ধ না চাইলেও নিজের জনগণ নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে এক মুহূর্তও দেরি করবে না’। জারিফ বলেন, ‘আমেরিকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মোকাবেলা করার পরিবর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা শত শত কোটি ডলার খরচ করে মধ্যপ্রাচ্যে বি-ফিফটিটু বোমারু বিমান সাবমেরিন পাঠিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরো বলেন, ইরাক থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল ইরাকে মার্কিন অবস্থানে এমনভাবে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করছে যাতে তার দোষ ইরানের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বিদায়ের আগ মুহূর্তে ট্রাম্পকে একটি বানোয়াট যুদ্ধে জড়ানো যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টুইট বার্তায় আরো লিখেছেন, ‘ট্রাম্প আপনাকে পাতানো ফাঁদের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। আগুন নিয়ে যেকোনো খেলার কঠোর জবাব দেয়া হবে বিশেষ করে আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বিরুদ্ধে জবাব হবে ভয়ঙ্কর’।
এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি এই সংস্থার মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে লেখা আলাদা আলাদা চিঠিতে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগর এলাকায় মার্কিন বোমারু বিমান ও বিমানবাহী রণতরীর উস্কানিমূলক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন এর ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বহুগুণে বেড়ে গেছে।
যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিমিতয্ বিমানবাহী রণতরীকে পারস্য উপসাগর থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে কিন্তু হোয়াইট হাউজ, ইসরাইল ও সৌদি আরবের সরাসরি হস্তক্ষেপে এ অঞ্চলে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার বিষয়টি দুদিক থেকে মূল্যায়ন করা যায়। প্রথমত, এ ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতার ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করা যায়। কেননা বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের উগ্র মহল এবং এ অঞ্চলে তাদের আরব মিত্ররা ও দখলদার ইসরাইলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্থায়ীভাবে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির পাশাপাশি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেয়া। তবে এ ধরনের তৎপরতার ফলে ইসরাইলকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির দ্বিতীয় প্রভাব হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে।
যাইহোক ইরান এ অঞ্চলে কোন যুদ্ধ সংঘাত চায় না কিন্তু যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। ইরান প্রথম থেকেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এ অঞ্চলের জাতিগুলোর স্বার্থ, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩