‘রেডিও তেহরানে বিস্ময়ের শেষ নেই’
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i105138-রেডিও_তেহরানে_বিস্ময়ের_শেষ_নেই’
"আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে।" সারাবিশ্ব জগতেই তার বাঁশির মধুরতম ও গভীরতম সুর প্রাণের মধ্যে প্রবাহিত হয়ে আসছে। মহত্মের উচ্চতা, প্রেমের গাঢ়তা, সৌন্দর্যের চরমোৎকর্ষ সমস্ত তার দর্শন গভীরতার দিকে টেনে নিয়ে গিয়ে আমাদের সুধায় ডুবিয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আনন্দের বেদনাকে এমনি করেই চিরকাল জাগিয়ে রেখে চিরকাল তৃপ্ত হব আমরা। তোমার মধুর প্রেমেই, তোমার বাণীতেই দুঃখকে অলংকার করে গলায় পরতে পারি, মৃত্যুও যেন সুধাময় হয়ে ওঠে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মার্চ ১৩, ২০২২ ০৯:৪১ Asia/Dhaka
  • ‘রেডিও তেহরানে বিস্ময়ের শেষ নেই’

"আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে।" সারাবিশ্ব জগতেই তার বাঁশির মধুরতম ও গভীরতম সুর প্রাণের মধ্যে প্রবাহিত হয়ে আসছে। মহত্মের উচ্চতা, প্রেমের গাঢ়তা, সৌন্দর্যের চরমোৎকর্ষ সমস্ত তার দর্শন গভীরতার দিকে টেনে নিয়ে গিয়ে আমাদের সুধায় ডুবিয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আনন্দের বেদনাকে এমনি করেই চিরকাল জাগিয়ে রেখে চিরকাল তৃপ্ত হব আমরা। তোমার মধুর প্রেমেই, তোমার বাণীতেই দুঃখকে অলংকার করে গলায় পরতে পারি, মৃত্যুও যেন সুধাময় হয়ে ওঠে।

সুধাময় অতল স্পর্শ গভীরতাকে স্পর্শ করা আমাদের দুঃসাধ্য। পৃথিবী আজ দুর্গতির পঙ্ককুণ্ডে লুটোচ্ছে- হিংসায় উন্মত্ত আজ পৃথ্বি। আমরা বল, তেজ, সম্পদ সমস্ত হারিয়ে ফেলেছি। সত্যতা আমাদের কাছে আছে দুরূহ, বিশ্বাস আজ  দুঃস্বপ্ন। ভালোবাসা আজ সুদূর। সমস্ত অধিকারেই কেবল সংকীর্ণতা। কল্পনা আজ বড় দুর্বল। মনুষ্যত্বের গৌরব আজ ধুলায় লুণ্ঠিত। তাই প্রাণের আশ্রয় রেডিও তেহরান, প্রাণের আরাম তার অনুষ্ঠানমালা।

আনন্দ-বেদনার মরমী মহত্মের মহত্তম  প্রকাশের শ্রেষ্ঠ আধার যার মাধ্যমে সীমার সঙ্গে অসীমের, খণ্ডের সঙ্গে পূর্ণের, ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে বিশ্ব জীবনের চিরন্তন প্রবাহের উপলব্ধি। যে শ্রবণের এর সংস্পর্শে মনের গহনে পরমসত্তা জাগ্রত হয় যেখানে নিজেকে নিবেদনের পরম  আকুতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পরিবেশিত সেই রেডিও তেহরান। রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাই রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালার পর্যালোচনা একান্তই কাম্য এবং স্বাভাবিক।

সৃষ্টিকর্তা যে খনির ভেতর থেকে রত্নকে উদ্ধার করতে চান, তিনি যে বিরোধের এই কোলাহলের মধ্য থেকেই তার উপাসনাকে উদ্ধার করবেন। কারণ এই কোলাহলের জীব মানুষ যখন শান্তিকে পায় তখন সেই গভীরতম শান্তির তুলনা কোথায়। সে শান্তি জনহীন সমুদ্রে নেই, মরুভূমির স্তব্ধতায় নেই, পর্বতের দুর্গম শিখরে নেই। আত্মার মধ্যে সেই গভীর শান্তি। তাই ধ্বনিত হয় রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানে।

সৃষ্টিকর্তা, তুমি বোধ দাও। তোমাকে স্মরণ করে মনকে আমরা নম্র করি। প্রতিদিনের ক্ষুদ্রতা আমাদের ঔদ্ধত্যে নিয়ে যায়, তোমার চরণতলে আপনাকে একবার সম্পূর্ণ ভুলি। এই ক্ষুদ্র আমার সীমায় আমি বড় হয়ে উঠছি এবং পদে পদে অন্যকে আঘাত করছি, আমাকে পরাভূত করো তোমার প্রেমে। এই মৃত্যুর মধ্যে আমাকে রেখো না, হে সৃষ্টিকর্তা, প্রেমেতে ভক্তিতে অবনত হয়ে সালাম করি এবং সেই সালামের দ্বারা রক্ষা পাই। তা না হলে দুঃখ পেতেই হবে, বাসনার অভিঘাত সহ্য করতেই হবে। অহংকারের পীড়ন প্রতিদিন জীবনকে ভারগ্রস্ত করে তুলবেই তুলবে। যে প্রভু, স্বামী, বান্ধব আমাদের জীবন- দেবতা তার প্রতি আমাদের চরম নির্ভরতা ও আত্মনিবেদনই রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানের মূল সুর। তার অনুষ্ঠানমালার বাণীতে নিতে নিতে হবে মর্মে, ছড়াতে হবে উপলব্ধিতে। রেডিও তেহরান শিখিয়েছে- ‘অন্তর মম বিকশিত কর অন্তরতর হে’।

আজ আমরা হিংসা-বিদ্বেষ দ্বন্দ্বে কলুষিত, জাতিভেদে জর্জরিত, বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি হিংস্রতায় উদ্যত, শান্তির নামে চলে ভ্রষ্টতা। এমন দিনে রেডিও তেহরানের ভাবাদর্শ, মানবপ্রেম, সৎ আদর্শ বিশেষভাবে স্মরণীয়। রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শ্রবণ ও অনুসরণ হৃদয়কে পবিত্র করে, শান্তি দেয়, দীনতার গ্লানি গোছায়। রেডিও তেহরান আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক। আজ শান্তি নেই সারা বিশ্বে। বিশ্বময় বিষবাষ্প প্রবাহিত। তাই রেডিও তেহরানের দর্শন আজ বড় বেশি প্রয়োজনীয়। যদি তাকে অমান্য করি তাহলে মানুষের মূঢ়তায় পতন। যদি সমাজে অমান্য করি তাহলে আমাদের জড়তায় পতন। আমরা অনন্তের মধ্যে অবাধ গতিকে ধরতে চাই না। অন্তরের আনন্দকে পাওয়াই উদ্দেশ্য। এই পথেই নিয়ে চলে রেডিও তেহরান। তার ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের মধ্যে শান্তি বর্ষণ করুক। তার প্রেমের ডাক আসুক শুভক্ষণে। রেডিও তেহরানের পথ ধরেই আসুক ‘অসতো মা সদ্গময়’।

 

ধন্যবাদান্তে

বিধান চন্দ্র সান্যাল

ঢাকা কলোনী, বালুরঘাট

দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।