ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐক্য জোরদারের বিরোধী
মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ইসরাইলি যুদ্ধ-মন্ত্রীর বৈঠকের নানা রহস্য!
-
ইসরাইলি যুদ্ধ-মন্ত্রী বেনিআমিন গান্জ ও ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের মাত্র দু'দিন পরই ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দখলদার ইসরাইলের যুদ্ধ-মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।
(গত বৃহস্পতিবার) রামাল্লাহ শহরে ইসরাইলি যুদ্ধ-মন্ত্রী বেনিআমিন গান্জ (Benjamin Gantz ) আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ অঞ্চলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন-এর আসন্ন সফরের প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আব্বাস দু’পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন ও অতীতের স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন এবং যেসব পদক্ষেপের কারণে উত্তেজনা বেড়েছে সেগুলো স্থগিত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ায়ির লাপিদও ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে খবর এসেছে। লাপিদ ও আব্বাস নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য ইসরাইলি যুদ্ধ-মন্ত্রী গত এক বছরের মধ্যে এ নিয়ে দু'বার তথাকথিত ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেছে। গত বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর ইসরাইলি যুদ্ধ-মন্ত্রী ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিল। ফলত এটা স্পষ্ট এ ধরনের বৈঠকে ফিলিস্তিনের জাতীয় স্বার্থ গুরুত্ব পায় না বরং গুরুত্ব পায় আপোষ-প্রক্রিয়ায় সায় দিয়ে ইসরাইলের করুণা-নির্ভর হয়ে-পড়া ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ যাতে দুর্বল এই সরকারকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিন বিষয়ে আরও বেশি ছাড় আদায় করতে পারে মাঠে-ময়দানে ফিলিস্তিনি সংগ্রামীদের ব্যাপক প্রতিরোধে দিশেহারা ইসরাইলি শাসক-গোষ্ঠী।
অন্যদিকে হামাস ও ইসলামী জিহাদের মত সংগ্রামী ফিলিস্তিনি দলগুলো ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সমন্বয়ের কঠোর বিরোধী এবং তারা এর অবসান দাবি করে আসছে।
গান্জ্ ও আব্বাসের গতবারের বৈঠকটি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত-এর বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর! আর এবারের বৈঠক হল সৌদি আরব ও অধিকৃত ফিলিস্তিনে বাইডেনের আসন্ন সফরের প্রাক্কালে! বাইডেন আব্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বাইডেনের এই সফরগুলোর মূল লক্ষ্য হল ট্রাম্পের সময়ে কয়েকটি আরব সরকার ও ইসরাইলের মধ্যে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তিকে এগিয়ে নেয়া। এ চুক্তিতে ইসরাইলের স্বার্থকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যা ফিলিস্তিনি স্বার্থের পরিপন্থী। ওই চুক্তির পরই ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর হিংস্রতা ও বলদর্পিতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
পরিহাসের বিষয় হল আব্বাস ও গান্জ্-এর বৈঠক এমন সময় করা হল যখন এর মাত্র দু'দিন আগে মাহমুদ আব্বাস হামাস-প্রধান ইসমাইল হানিয়ার সঙ্গে ১৫ বছর পর সাক্ষাৎ করেছেন। এ বৈঠকের পর হামাসসহ গাজার সংগ্রামী ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে স্বশাসন কর্তৃপক্ষের সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হবে বলে সবাই আশা করছিল। কিন্তু আব্বাসের সঙ্গে গানজ্-এর বৈঠক থেকে বোঝা যায় ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐক্য জোরদারের বিরোধী। অন্যদিকে আব্বাসও ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ ও সংলাপকে ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য বাড়ানোর চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। #
পার্সটডে/এমএএইচ/৯