ইরাকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত: শিয়াদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া সম্ভব ছিল না
ইরাকের আইনপ্রণেতারা দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কুর্দি রাজনীতিবিদ আব্দুল লতিফ রশিদকে নির্বাচিত করেছেন। এর ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হল।
গত বছর অক্টোবরে ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত এক বছরে একমাত্র মোহাম্মদ আল হালবুসি পর্যাপ্ত ভোট পেয়ে দুইবার পার্লামেন্ট স্পিকারের পদ পেতে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রথমবার সাদর মুভমেন্টের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এবং দ্বিতীয়বার সাদর সমর্থক পার্লামেন্ট প্রতিনিধিরা পদত্যাগের পর স্পিকার পদে নির্বাচিত হন। গত এক বছরে বারহাম সালেহ প্রেসিডেন্ট পদে এবং মোস্তফা আল কাজেমি প্রধানমন্ত্রীর পদের দায়িত্ব পান। এ দীর্ঘ সময়ে ইরাকের সংসদ সদস্যরা নতুন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে ব্যর্থ হন।
যাইহোক, ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের এক বছর পর প্রধান দুই কুর্দি দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের পর শেষ পর্যন্ত গতকাল নতুন প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করা হয়েছে। পার্লামেন্টে দুই দফা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুর্দি রাজনীতিবিদ আব্দুল লতিফ রশিদ ৯৯ ভোটে বারহাম সালিহকে হারিয়ে ১৬২ ভোট নিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব লাভের পর আব্দুল লতিফ রশিদ মোহাম্মদ শিয়ায়ে আল সুদানিকে মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রধান দুই কুর্দি দল অর্থাৎ ডেমোক্রেটিক পার্টি ও কুর্দিস্তান পেট্রিয়াটিক ইউনিয়নের মধ্যকার মতবিরোধের অবসান ঘটার পরই আব্দুল লতিফ রশিদ নয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হলেন। ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট কুর্দিদের মধ্য হতে নির্বাচিত হবেন। কিন্তু গত এক বছরে দুই কুর্দি রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলে আসছিল। পার্লামেন্টে ডেমোক্রেট পার্টির আসন সংখ্যা প্রতিদ্বন্দ্বী কুর্দিস্তান পেট্রিয়টিক ইউনিয়নের চেয়ে দুই গুণ বেশি। সে কারণে তারা তাদের পছন্দমতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে চেয়েছিল। অন্যদিকে ডেমোক্রেট পার্টিও মনে করে অতীতের মতো এবারও তাদের পছন্দ মতো ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা তাদের অধিকার।
শেষ পর্যন্ত কুর্দি রাজনীতিবিদ আব্দুল লতিফ রশিদ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ডেমোক্রেট পার্টির নেতা মাসুদ বারজানি তাকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ইরাকের ভবিষ্যত রাজনীতি ইতিবাচক দিকে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
যাইহোক, নতুন প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য মোহাম্মদ আল শিয়াই আল সুদানিকে দায়িত্ব দেয়া থেকে বোঝা যায় প্রভাবশালী শিয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে তিনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। শিয়াদের সঙ্গে সমন্বয় না করলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়াটাও তার জন্য কঠিন হতো। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।