সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে সৌদি আরবের নীতিতে পরিবর্তনের আভাস!
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i13933-সন্ত্রাসবাদের_ব্যাপারে_সৌদি_আরবের_নীতিতে_পরিবর্তনের_আভাস!
সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে সৌদি আরবের নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির মদিনা ও কাতিফ শহরে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার পর উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের প্রতি সৌদি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নজিরবিহীন সমালোচনা থেকে পরিবর্তনের ওই আভাস পাওয়া যায়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ০৭, ২০১৬ ১৪:২০ Asia/Dhaka

সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে সৌদি আরবের নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির মদিনা ও কাতিফ শহরে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার পর উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের প্রতি সৌদি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নজিরবিহীন সমালোচনা থেকে পরিবর্তনের ওই আভাস পাওয়া যায়।

সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এর আগে কোনো রাখঢাক না করেই সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন দিতেন। কিন্তু মদিনা, জেদ্দা ও কাতিফ শহরে সন্ত্রাসী হামলার পর গত মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, এরপর এখন থেকে যে কেউ যুবকদের চিন্তাচেতনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সৌদি রাজা সালমান গত কয়েক বছর ধরে সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে তৎপর দায়েশ ও আন্‌ নুসরার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি রিয়াদের সর্বাত্মক সাহায্য সমর্থনের বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, যুবকদের চিন্তাচেতনাকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করা বর্তমানে মুসলিম উম্মার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যা কিনা যুবকদেরকে উগ্রবাদের ঠেলে দিচ্ছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফও দুই দিন আগে জেদ্দা ও মদিনায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর দাবি করেছেন, রিয়াদ মুসলিম দেশকে নিরাপত্তাহীন করার সুযোগ সন্ত্রাসীদেরকে দেবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি কর্মকর্তারা অনেক দেরিতে হলেও এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর জন্য সন্ত্রাসবাদের বিপদ এবং উগ্রবাদ মোকাবেলার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ সৌদি আরবে সন্ত্রাসী হামলার আগ পর্যন্ত তারা বহুবার মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর সন্ত্রাসীদের প্রতি প্রকাশ্যেই সমর্থন দিয়ে এসেছিলেন। সৌদি রাজা এমন সময় উগ্রবাদকে মুসলিম উম্মার জন্য মারাত্মক বিপদ হিসেবে তুলে ধরেছেন যখন ইরাক ও সিরিয়া থেকে পাওয়া শতাধিক তথ্য প্রমাণে দেখা গেছে সৌদি সরকারই এ অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

এ ছাড়া, এটা কারো অজানা নয় যে, সৌদি আরব হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের প্রধান উৎস অর্থাৎ উগ্র ওয়াহাবি চিন্তাচেতনার প্রধান কেন্দ্র বা ঘাঁটি। এই ওয়াহাবি মতবাদ আফগানিস্তান থেকে শুরু করে সুদূর আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। এরাই বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে যে শত শত সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে সৌদি সমর্থিত ওয়াহাবি চিন্তাচেতনায় বিশ্বাসীরাই সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপের পাশাপাশি বিরোধী মতের সরকারে পরিবর্তন আনা, প্রয়োজনে সেসব দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা, ধর্ম ও জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি দেশকে খণ্ড বিখণ্ড করা এবং এ ধারা সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু সৌদি আরবের উচিৎ এ নীতি থেকে সরে আসা কারণ তারা এ ক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়ায় ধ্বংস ও প্রাণহানি ছাড়া আর কোনো ফল বয়ে আনেনি।

সৌদি আরবে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, বিদেশের মাটিতে যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়েছে এবং এসবের ফলে সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশের ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হয়নি। এ ছাড়া, ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও এখন প্রকাশ্যে চলে আসায় মুসলিম উম্মার পক্ষে সৌদি কর্মকর্তারা যেসব বক্তব্য দেন কিংবা তারা অন্য দেশের সরকার পরিবর্তন বা সংস্কারের জন্য যেসব কথাবার্তা বলেন তারও কোনো মূল্য নেই। কারণ অন্য দেশের চাইতে খোদ সৌদি আরবেরই সংস্কারের প্রয়োজন। #

পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/৭