ইসরাইলের কমান্ডো ব্রিগেডের ওপর হিজবুল্লাহর আশ্চর্যজনক হামলার বিষয়ে কিছু তথ্য
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i142694-ইসরাইলের_কমান্ডো_ব্রিগেডের_ওপর_হিজবুল্লাহর_আশ্চর্যজনক_হামলার_বিষয়ে_কিছু_তথ্য
ইহুদিবাদী ইসরাইলের কমান্ডো ব্রিগেডের উপর হিজবুল্লাহর আক্রমণকে এই যুদ্ধে এ যাবৎকালে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান হিসেবে বলা যেতে পারে যা যুদ্ধের অগ্রগতির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর ড্রোন ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে যেভাবে হামলা চালিয়েছে তা স্বয়ং ইসরাইলকে চমকে দিয়েছে।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
অক্টোবর ১৫, ২০২৪ ১৯:৩৭ Asia/Dhaka
  • ইসরাইলের কমান্ডো ব্রিগেডের ওপর হিজবুল্লাহর আশ্চর্যজনক হামলার বিষয়ে কিছু তথ্য

ইহুদিবাদী ইসরাইলের কমান্ডো ব্রিগেডের উপর হিজবুল্লাহর আক্রমণকে এই যুদ্ধে এ যাবৎকালে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান হিসেবে বলা যেতে পারে যা যুদ্ধের অগ্রগতির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর ড্রোন ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে যেভাবে হামলা চালিয়েছে তা স্বয়ং ইসরাইলকে চমকে দিয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের কাছ থেকে অনেক বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে যে হিজবুল্লাহ একটি নেতৃত্ব শূণ্যহীন সংগঠনে পরিণত হয়েছে এবং এর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ও প্রথম পর্যায়ের সামরিক কমান্ডারদের হত্যার পর তার ক্ষমতা হারিয়েছে। এখানে চিন্তা করার বিষয় যে হিজবুল্লাহর মাঝারি এবং স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ গত সেপ্টেম্বরে এর কমান্ডার মোহাম্মদ হোসেন সারওয়ারকে হত্যার পর অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল যাতে সবাই হতবাক হয়ে যায়।

পার্সটুডের মতে ইরানি সংবাদপত্র ভাতান মুরুজে মোহাম্মদ আলী হাসানিয়ার লেখা একটি নোটে ইসরাইলি গোলানি কমান্ডো ইউনিটের বাহিনীর উপর লেবাননের হিজবুল্লাহর আশ্চর্যজনক আক্রমণ কয়েকটি ধাপে বিশ্লেষণ করেছেন।

হামলা ও সন্ত্রাসে ইসরাইলের মূল লক্ষ্য কী ছিল? তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ছিল হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করে নিরস্ত্র করা এবং অধিকৃত অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ না করা। এটি মোটেও ঘটেনি তবে এর বিপরীত ফলাফল এসেছে এবং হিজবুল্লাহ আরও শক্তি নিয়ে গুলি চালাচ্ছে।

হিজবুল্লাহর শক্তিশালী গোয়েন্দা ব্যবস্থা

প্রশ্নবিদ্ধ ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক তথ্য ছাড়াও হামলার ধরণ থেকে দেখা যায় যে হিজবুল্লাহ সেই ঘাঁটিতে ইসরাইলি সেনা সৈন্যদের চলাচলের পরিকল্পনা এবং সেই সময়ে তাদের খাওয়ার বিষয়ে সচেতন ছিল। এই ঘটনাটি দেখায় যে হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী ফায়ার মেশিন ছাড়াও একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা ব্যবস্থা রয়েছে যার মাধ্যমে ইসরাইলি সৈন্যরা কখন খায় তাও জানে।

হিজবুল্লাহর ক্রমাগত হামলায় স্থিতিশীলতা

ইসরাইলি আক্রমণ,আর্টিলারি ব্যারেজ এবং চারটি ইসরাইলি ডিভিশন জড়িত স্থল অগ্রগতির চেষ্টা সত্ত্বেও দক্ষিণে যুদ্ধে আধিপত্য বজায় রাখতে হিজবুল্লাহর সক্ষমতা প্রমাণ করে দৈনিক আক্রমণের সিরিজের অংশ হিসাবে এই আক্রমণটি এসেছিল। হিজবুল্লাহ ইসরাইলি সামরিক সাইট,ঘাঁটি এবং বসতিগুলোতে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০টির মত রকেট গুলি চালিয়ে যাচ্ছে যার মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হল যে হিজবুল্লাহর কোনো ক্ষয় নেই!

ইসরাইলি সন্ত্রাস সমীকরণ ব্যর্থ

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর বিবৃতিগুলো ইঙ্গিত করে যে তারা উত্তর ইসরাইলক থেকে আরও বসতি স্থাপন তেল আবিব সরিয়ে নেবে এবং তাদের প্রত্যাবর্তন তখনই সম্ভব যদি লেবানন এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি হয়। এতে দেখা যায় সন্ত্রাসবাদের সমীকরণ সামরিক ও নিরাপত্তার সমীকরণ পরিবর্তন করতে পারেনি।

বিশেষ আঘাত হানতে হিজবুল্লাহর পারদর্শীতা এবং অস্ত্র রাখার অজানা কৌশল

ইহুদিবাদী ইসরাইলের কমান্ডো ব্রিগেডের উপর হিজবুল্লাহর আক্রমণকে এই যুদ্ধে এ যাবৎকালে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান হিসেবে বলা যেতে পারে যা যুদ্ধের অগ্রগতির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে যেভাবে হামলা চালিয়েছে তা স্বয়ং ইসরাইলকে চমকে দিয়েছে। এছাড়াও, একটি অপারেশনে আহত ও নিহতের উচ্চ সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে এই যুদ্ধের তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি আক্রমণ এমনভাবে ঘটেছে তা নজিরবিহীন। এছাড়াও কিছু হিব্রু এবং আল-জাজিরা মিডিয়ার মতে, প্রথমবারের মতো একটি স্বতন্ত্র উন্নত ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। এরই মধ্যে, ড্রোনের ধরনটি এখনও পরিষ্কার নয় যাতে এটি বিচার করা যায়।

হিজবুল্লাহর ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা

এই হামলা হিজবুল্লাহকে হত্যাকাণ্ডের ধাক্কা থেকে বের করে নিয়েছিল এবং দ্বিতীয়ত, এটি ইসরাইলকে আক্রমণের ধাক্কায় নিমজ্জিত করেছিল। তেল আবিব যেটি তার গুপ্তহত্যা অভিযান বিশেষ করে শহীদ নাসরাল্লাহর হত্যার পর গর্বের মধ্যে ডুবেছিল দুটি পর্যায়ে হতবাক হয়েছিল। প্রথমত,লেবাননের উপর স্থল আক্রমণে যা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল এবং দক্ষিণে পাহাড়ী বাধার কারণে বেশ কয়েকটি পর্যায়ে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং এতে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। ধাক্কার দ্বিতীয় পর্যায় ছিল হিজবুল্লাহর ড্রোন অপারেশন যা ইসরায়েলিদের হতবাক করেছিল। এই অপারেশনটি ইসরায়েলিদের জন্য সামরিক বোঝার চেয়ে মানসিক বোঝা বেশি ছিল এবং দক্ষিণ লেবানন দখলের তাদের উচ্চ স্বপ্নকে ধ্বংস করে দেয়।#

পার্সটুডে/এমবিএ/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।