ওপেক ও ওপেক+ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে আরব আমিরাত
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i158882-ওপেক_ও_ওপেক_ছাড়ার_ঘোষণা_দিয়েছে_আরব_আমিরাত
পাঁচ দশকের বেশি সময় পর তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক এবং ওপেক+ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হবে।
(last modified 2026-04-28T13:12:19+00:00 )
এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ১৯:০৭ Asia/Dhaka
  • ওপেক ও ওপেক+ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে আরব আমিরাত

পাঁচ দশকের বেশি সময় পর তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক এবং ওপেক+ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হবে।

বুধবার ভিয়েনায় ওপেকের বৈঠকের আগে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। ইউএই-এর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানায়, তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, "যদিও আরব উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার কারণে স্বল্পমেয়াদে তেলের যোগান প্রভাবিত হচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি চাহিদা বাড়বে বলেই মনে করে ইউএই।"

আমিরাত সম্প্রতি তাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। এখন তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৭৫ শতাংশই আসে তেলবহির্ভূত খাত থেকে। তবে দেশটি তেল উৎপাদন বাড়ানোরও পরিকল্পনা করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে তারা দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে ৫০ লাখ ব্যারেল করতে চায়।

ওয়ামের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা ওপেক ও ওপেক+-এর প্রচেষ্টার প্রশংসা করি এবং তাদের সাফল্য কামনা করি। কিন্তু এখন সময় এসেছে আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার।"

ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চ মাসে ওপেকের তেল উৎপাদন দৈনিক ৭৮.৮ লাখ ব্যারেল কমে যায়। এটি সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। পুরো ওপেকের উৎপাদন ২৭ শতাংশ কমে দৈনিক ২০৭.৯ লাখ ব্যারেলে দাঁড়ায়। এটি কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার পতনের চেয়েও বড় এবং ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট ও ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়কার পতনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ইউএই ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একটি। তারা ১৯৬৭ সালে এই সংগঠনে যোগ দেয়, যা তাদের দেশ প্রতিষ্ঠার চার বছর আগের ঘটনা। সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক দেশগুলোর সঙ্গে মিলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে ইউএই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

ইউএই-এর আগে ২০১৯ সালে কাতার ওপেক ছেড়েছিল। কাতারের যুক্তি ছিল, গ্যাস উৎপাদনে তাদের শীর্ষ অবস্থানের কারণে ওপেকের সদস্যপদ তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক নয়। বাহরাইন ও ওমান এখনো ওপেকের বাইরে থাকলেও তারা ওপেকের সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একমত পোষণ করে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৮