শিয়া ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান: বাহরাইন সরকারের লক্ষ্য কী?
-
• শিয়াদের বিরুদ্ধে বাহরাইন সরকারের নজিরবিহীন গ্রেফতার অভিযান
পার্সটুডে- বাহরাইন মানবাধিকার সমিতির প্রধান বাকির দারবিশ বলেছেন, "বাহরাইনের রাজনৈতিক ইতিহাসে শিয়াদের ওপর এই দমনপীড়ন নজিরবিহীন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট আলেম, মসজিদ ও জুমার ইমাম, মাদ্রাসার পরিচালক, নাজাফ আশরাফ ও পবিত্র শহর কোমের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, মাদ্রাসার অধ্যাপক, ধর্মপ্রচারক এবং ধর্মীয় মিশনারি এবং আয়াতুল্লাহ শেখ ঈসা কাসিমের সভাপতিত্বে পরিচালিত 'ইসলামিক কাউন্সিল অফ স্কলারস'-এর কিছু প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও তাদের মধ্যে রয়েছেন।"
প্রশ্ন হলো, বাহরাইনের ধর্মীয় নেতাদের এই মাত্রায় দমন করার পেছনে আল খলিফার লক্ষ্য কী?
আল খলিফার প্রধান লক্ষ্য হলো ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ এবং বাহরাইনে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ প্রতিরোধ করা যায়। আল খলিফা সরকারের নির্বিচার গ্রেপ্তারের ব্যাপক ঢেউ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি আরোপ এবং সেইসব নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত দমনপীড়ন চালাচ্ছে যারা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং বাহরাইনের উপর এর প্রত্যক্ষ পরিণতির বিষয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতামত ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করছেন। সুতরাং, এই ব্যাপক দমনপীড়ন ও গ্রেফতার হলো গণবিক্ষোভ দমনের প্রচেষ্টা।
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, ধর্মীয় নেতাদের দমন ও গ্রেপ্তারকে আল খলিফার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের সমাজে জনপ্রিয়তাএবং বিশাল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক রয়েছে। অনেক মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে যাদের মসজিদ, হুসেইনিয়া বা ইমামবাড়া এবং মিম্বর হলো সেই স্থান যেখানে জনমত গঠিত হয়। ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাহরাইনি সমাজের তাদের প্রভাবকে খর্ব করা।
আল খলিফার আরেকটি লক্ষ্য হলো বাহরাইনি সমাজকে শিয়া-মুক্ত করা। বাহরাইনকে শিয়া-মুক্ত করা আল খলিফার একটি দীর্ঘদিনের কৌশল, কারণ দেশটিতে শিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং আল খলিফা দশকের পর দশক ধরে বাহরাইনের জনসংখ্যার গঠনকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করে আসছে। যদিও আল খলিফা সরকার শিয়াদের পাশাপাশি সরকারের সমালোচনাকারী ও স্বাধীন সুন্নিদের বিরুদ্ধেও সহিংস আচরণ করেছে তবে বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া বেশিরভাগ নেতাই শিয়া।
বাহরাইন মানবাধিকার সমিতির প্রধান বাকের দারবিশ বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে মাদ্রাসা, হুসেইনি প্রতিনিধিদল, মসজিদ, হুসেইনিয়া বা ইমামবাড়া, কিন্ডারগার্টেন, ইসলামিক প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি বিচারিক রায়ের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে সরকার এই সমস্ত শিয়া-সংশ্লিষ্ট সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিধিনিষেধের ব্যাপক অভিযান বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
শেষ কথা হলো, আল খলিফা দমন-পীড়ন বাড়িয়ে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং সাময়িকভাবে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের পদক্ষেপগুলো বিপরীত ফল দেবে এবং শাসকগোষ্ঠীর বৈধতার সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।