আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i22954-আমেরিকার_সঙ্গে_আলোচনা_প্রত্যাখ্যান_করলেন_রুশ_প্রেসিডেন্ট_পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন  বলেছেন বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে ওয়াশিংটন-মস্কো আলোচনা হবার সুযোগ নেই। পুতিনের ভাষায়-আমেরিকার দৃষ্টিতে আলোচনা হলো প্রথমেই তাদের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষাগুলো তুলে ধরা এবং তারপর সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য চাপাচাপি করা।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
অক্টোবর ১৪, ২০১৬ ১৫:১৬ Asia/Dhaka

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন  বলেছেন বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে ওয়াশিংটন-মস্কো আলোচনা হবার সুযোগ নেই। পুতিনের ভাষায়-আমেরিকার দৃষ্টিতে আলোচনা হলো প্রথমেই তাদের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষাগুলো তুলে ধরা এবং তারপর সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য চাপাচাপি করা।

পুতিন বলেছেন তাঁর দেশ গঠনমূলক আলোচনায় বিশ্বাসী। দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় পৌঁছার নিশ্চিত উপায়গুলো খুঁজে বের করার জন্য আলোচনা হলে মস্কো সে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু আমেরিকা যে পদ্ধতির আলোচনার কথা বলছে সেটা আসলে আলোচনা নয় বরং তাদের প্রতিপক্ষের ওপর নিজেদের চাওয়াপাওয়াগুলো চাপিয়ে দেওয়ার একটা কৌশলমাত্র। মার্কিন আলোচকদের উদ্দেশ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট পরামর্শ দিয়ে বলেন আলোচকদের উচিত রাশিয়ার সাথে তাদের সমপর্যায়ের অংশিদারের মতো আচরণ করা। সেইসঙ্গে মস্কোর স্বার্থের বিষয়টিও চিন্তা করা।

আমেরিকার সঙ্গে যখন রাশিয়ার সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে সে সময় এরকম সমালোচনামূলক বক্তব্য দিলেন পুতিন। বছর তিনেক ধরে দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন যাচ্ছে। ইউক্রেন সংকটসহ আরও বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমেরিকা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে যে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যে অভ্যুত্থান হয়েছিল তাতে ওয়াশিংটনের ইন্ধন ছিল। তারা তৎকালীন ইউক্রেন সরকারের বিরোধি গোষ্ঠিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল।

এছাড়া সাইবার যুদ্ধ এবং সিরিয়া সংকটও দুদেশের মধ্যকার মতানৈক্য ও টানাপড়েনের দুটি নতুন অনুষঙ্গ। আমেরিকা কোনোরকম রাখঢাক না করে স্পষ্ট ভাষায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। সাইবার আক্রমণ চালানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।বলা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ চালাচ্ছে রাশিয়া। সিরিয়া সংকটের কারণেও মস্কো-ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। আমেরিকা, ফ্রান্স-বৃটেনসহ তাদের ইউরোপিয় মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে কথিত 'যুদ্ধাপরাধ' তদন্ত করতে চায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিসহ অভিযোগ উত্থাপনকারী দেশগুলোর অভিযোগের আঙুল সিরিয়া এবং রাশিয়ার দিকে নির্দেশ করা। পক্ষান্তরে এ ধরনের অভিযোগের পরিণতির ব্যাপারে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমেরিকার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

এরকম পরিস্থিতিতে বিশ্লেষক মহল মনে করছেন রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার টানাপড়েন চরম আকার ধারন করেছে এবং দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক এখন সাবেক শীতল যুদ্ধের যুগে ফিরে গেছে। বেশ কিছু বিষয় সম্প্রতি দুদেশের মধ্যকার সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। একটি হলো ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ন্যাটো বাহিনীর বিস্তার, ইউরোপের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা ইথ্যাদি। আমেরিকার এইসব পদক্ষেপ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এসবের বাইরেও ২০১৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার অন্তর্ভুক্তির ঘটনাও বিশ্বের বৃহৎ দুই পরাশক্তির মাঝে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবার অন্যতম কারণ। এই ঘটনার পর ন্যাটো বাহিনী ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে তাদের সশস্ত্র সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে এবং ওয়াশিংটনের সহযোগিতায় ন্যাটো বেশ কবার মহড়া চালিয়েছে। এই ঘটনাও উত্তেজনা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ। এসবের সঙ্গে নতুন অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে সিরিয়া সংকট। বিশেষ করে সিরিয়া সংকট নিরসনে আমেরিকার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রতিনিয়ত হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা আমেরিকার এরকম আচরণে বেজায় ক্ষুব্ধ। সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনায় আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়েই যাচ্ছে।

এরকম পরিস্থিতিতে রাশিয়ার কর্মকর্তারাও বলছেন সিরিয়া সংকট নিয়ে মস্কো-ওয়াশিংটনের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে। সুতরাং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সকল ক্ষেত্রেই দুদেশের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি ঘটবে-সেটাই স্বাভাবিক।*

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১৪