হামাস নেতাদের সঙ্গে মাহমুদ আব্বাসের অস্বাভাবিক বৈঠক
-
হামাস নেতা খালেদ মাশআল ও ইসমাইল হানিয়ার সঙ্গে মাহমুদ আব্বাসের (ডান থেকে দ্বিতীয়) বৈঠক
ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষ নেতা খালেদ মাশআল এবং ইসমাইল হানিয়ার সঙ্গে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ‘অস্বাভাবিক’ বৈঠক করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। কাতারের রাজধানী দোহায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে হামাস নেতাদের সঙ্গে মাহমুদ আব্বাসের এ ধরনের বৈঠক খুব একটা হয় না।
দোহা বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আস-সানি, ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা বা পিএলও’র মহাসচিব সায়েব এরিকাত এবং কাতারে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত মুনির গানেম।
ফিলিস্তিনি জনগণের চলমান সমস্যা এবং হামাস ও ফাতাহ আন্দোলনের মধ্যকার ভেদাভেদ কীভাবে দূর করা যায় তা নিয়ে দু পক্ষ আলোচনা করেছে। বৈঠকে হামাস নেতারা আগের সংহতি চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। এছাড়া, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠান ও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও অব্যাহত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের কথা বলেছেন হামাস নেতারা।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ জানিয়েছে, বৈঠকে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা এবং ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে সংলাপ শুরুর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠন এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে হামাস ও ফাতাহ নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে কিন্তু পরে মতপার্থক্য ব্যাপাক আকার ধারণ করে এবং ২০১৫ সালের জুন মাসে সেই সরকার ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এর আগে, ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের সংসদ নির্বাচনে হামাস আন্দোলন ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে কিন্তু তখনকার স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কিছুদিন পর সেই সরকার ভেঙে দেন। তারপর আর ফিলিস্তিনে জাতীয় নির্বাচন হয় নি।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/২৮