মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য সাধারণ মানুষকে জড়ো করছে দায়েশ
ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুল নগরীর বেসামরিক নাগরিকদের জোর করে বিভিন্ন স্থানে জড়ো করে রাখছে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ। মসুলের অধিবাসীরা এই খবর জানিয়ে বলেছেন, সরকারি বাহিনীর অগ্রাভিযানের মুখে তাদেরকে প্রয়োজনে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে জঙ্গিরা।
পূর্ব মসুলের অধিবাসী আবু ইউনিস জানিয়েছেন, দায়েশ তার এলাকার সব যুবক ও তরুণকে নিজেদের পরিচয়পত্রসহ নিকটতম স্কুলে সমবেত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ মানুষ মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কায় এ নির্দেশে সাড়া দেয়নি।
পশ্চিম মসুলের অধিবাসী আবু মোহাম্মাদ একই ধরনের খবর জানিয়ে বলেছেন, দায়েশ জঙ্গিরা দক্ষিণ মসুল থেকে লোকজনকে দলে দলে ধরে শহরের উত্তর অংশে নিয়ে যাচ্ছে। এসব বেসামরিক লোকজনের ভিড়ে মিশে গিয়ে জঙ্গিরা মসুল ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।
এর একদিন আগে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, মসুল নগরীর হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে দায়েশ জঙ্গিরা মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তারা খবর পেয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেছেন, মসুলে নিজেদের ঘাঁটিগুলোর চারপাশে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে জড়ো করে রেখেছে দায়েশ জঙ্গিরা। তিনি এসব সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
২০১৪ সালের জুন মাসে দায়েশের হাতে মসুলের পতন হয়। ওই বছর থেকে ইরাকের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের তাণ্ডব শুরু করে এই বর্বর জঙ্গিরা। তাদের হাত থেকে মসুল মুক্ত করার লক্ষ্যে গত ১৭ অক্টোবর থেকে বহুল প্রতীক্ষিত অভিযান শুরু করে ইরাকের সেনাবাহিনী। এ কাজে তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছে জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর পাশাপাশি কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধারা।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৩