সিরিয়ার স্থলসীমা লঙ্ঘন ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে বাশার আসাদের কড়া হুমকি
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i32741-সিরিয়ার_স্থলসীমা_লঙ্ঘন_ও_ইসরাইলের_বিরুদ্ধে_বাশার_আসাদের_কড়া_হুমকি
ইহুদিবাদি ইসরাইল সিরিয়ার স্থলসীমা আবারও লঙ্ঘন করেছে। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ তেলআবিবকে হুমকি দিয়ে বলেছে, দামেশকের মাজজে সামরিক বিমানবন্দরে ইসরাইল যদি আর একবার বোমা মারে, তাহলে সিরিয়া তেলআবিবসহ বেনগুরিয়ান বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭ ১৫:০৬ Asia/Dhaka

ইহুদিবাদি ইসরাইল সিরিয়ার স্থলসীমা আবারও লঙ্ঘন করেছে। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ তেলআবিবকে হুমকি দিয়ে বলেছে, দামেশকের মাজজে সামরিক বিমানবন্দরে ইসরাইল যদি আর একবার বোমা মারে, তাহলে সিরিয়া তেলআবিবসহ বেনগুরিয়ান বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে।

বাশার আসাদ প্রথমবারের মতো ইসরাইলের বিরুদ্ধে এরকম কড়া হুমকি দিলেন। ইসরাইল তিনবার মাজজে বিমানবন্দরে আকাশপথে হামলা চালিয়েছিল। জবাবে প্রতিবারই সিরিয়া আটটি করে স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে মেরেছে। কিন্তু এইবারই প্রথম স্বয়ং বাশার আসাদ এভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালেন। এর কারণ হলো গতকাল কানিত্রায় সিরিয় সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসরাইলি জঙ্গিবিমান হামলা চালিয়েছে। বিমান থেকে চালানো ওই ক্ষেপনাস্ত্র হামলার টার্গেট ছিল বাথ শহরের কয়েকটি ভবন। সিরিয়া সংকটের শুরুতেই ইসরাইল বাশার আসাদ বিরোধী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় গোলানসহ সংঘাতপূর্ণ কিছু এলাকায় সিরিয় সেনা অবস্থানে বহুবার হামলা চালায়। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ইসরাইল সিরিয়ার গোলান ভূখণ্ড জবর দখল করে এবং ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে সেই ভূমির ওপর নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ ও ৩৩৮ নম্বর ঘোষণার লঙ্ঘন।

২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ায় সংকট দেখা দিলে ইসরাইল তার পশ্চিমা মিত্রদের সহযোগিতায় গোলান দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করে। বাশার আসাদ বিরোধী গোষ্ঠিগুলো সন্ত্রাসীদের সাহায্য নিয়ে সিরিয়ার অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার ফলে ইসরাইল সুযোগ পেয়ে যায় এবং তার সদ্ব্যবহার করে। তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠি সৃষ্টি এবং সিরিয়া সংকট তৈরির পেছনে ইসরাইলের সুস্পষ্ট হাত ছিল। ওইসব সন্ত্রাসীর মাধ্যমে ইসরাইল দামেশকসহ সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালায়। এখনও তারা অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের সাথে সিরিয় সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ করে গোলানে হামলা চালিয়ে দামেশকের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জিইয়ে রাখার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু তাতে ইসরাইলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেছে। ওই সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা ব্যাপকভাবে পরাস্ত হয়েছে।

এরকম পরিস্থিতিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বাশার আসাদের হুমকির ঘটনায় প্রমাণিত হচ্ছে যে কুদস দখলদার ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক ইসরাইলের বিরুদ্ধে সিরিয়া এখন ব্যাপক শক্তিমত্তার অধিকারী হয়ে উঠেছে।

ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে তেলআবিব নিজেকে অনেকটা নিরাপদ মনে করছিল এবং সেই সুযোগে এ অঞ্চলে বেপরোয়াভাবে তাদের আধিপত্যবাদী নীতি চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বিশ্লেষক মহল মনে করছে, সিরিয়ার সাম্প্রতিক কড়া প্রতিবাদ ও হুমকির ঘটনায় মনে হচ্ছে ইসরাইল পুনরায় সীমালঙ্ঘন করলে তাদেরকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।* 

পার্সটুডে/নাসির মাহমূদ/১০