তুরস্কের ইরান-বিরোধী বক্তব্য; প্রতিবাদ করল ইরাক
-
আহমাদ জামাল
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বলে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি যে দাবি করেছেন তাকে ভুল এবং অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরাক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমাদ জামাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তুর্কি মন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুর ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি ইরাক ও সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই সম্পর্কে সাম্প্রদায়িক ও সংকীর্ণ মনের পরিচয় দিয়েছেন।
এছাড়া, সম্প্রতি বাহরাইন সফরের সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান অভিযোগ করেছেন, ইরাক এবং সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে ইরান। এরদোগানের মন্তব্যের আগে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভাষায় বলেছেন, ইরানের সাম্প্রদায়িক নীতির কারণে বাহরাইন ও সৌদি আরব দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সিরিয়ায় তৎপর উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যখন তুরস্কের ভূমি ব্যবহার করে এবং তুরস্কের অর্থ ও অস্ত্র-শস্ত্রে দামেস্ক সরকারকে উৎখাতের জন্য সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে তখন তুর্কি কর্মকর্তারা এসব কথা বলছেন। এছাড়া, তুরস্ক বিনা অনুমতিতে ইরাকের ভেতরে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে।
তুরস্কের এ বক্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাভুসওগ্লুর বক্তব্যকে অগঠনমূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল ও নিরাপত্তাহীন করে ফেলার জন্য তুরস্ক এবং সুনির্দিষ্ট কয়েকটি মোহাচ্ছন্ন দেশ দায়ী। এছাড়া, চাভুসওগ্লুর বক্তব্যের প্রতিবাদে তেহরান নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রেজা হাকানকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আমেরিকা ও তার পশ্চিমা কয়েকটি মিত্রদেশ এবং সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক দায়েশ এবং আন-নুসরাসহ বহু উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লেলিয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যখন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির তৈরি করেছে তখন তারা ইরানকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করছে। অথচ ইরানই দীর্ঘদিন ধরে উগ্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে এবং ইরাক ও সিরিয়া সরকারকে লড়াইয়ে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/২২