ন্যাটোভুক্ত একটি দেশ দায়েশকে অস্ত্র দিচ্ছে: তুর্কি প্রেসিডেন্ট
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i45157-ন্যাটোভুক্ত_একটি_দেশ_দায়েশকে_অস্ত্র_দিচ্ছে_তুর্কি_প্রেসিডেন্ট
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, ন্যাটো জোটের সদস্য একটি দেশ দায়েশ সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের প্রধান যোগানদাতা। তবে ওই দেশের নাম তিনি উল্লেখ করেননি।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৭ ১৪:২০ Asia/Dhaka
  • তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান
    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, ন্যাটো জোটের সদস্য একটি দেশ দায়েশ সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের প্রধান যোগানদাতা। তবে ওই দেশের নাম তিনি উল্লেখ করেননি।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর দায়েশ সন্ত্রাসীদের শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিন্টন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে চলা বিতর্কের সময়ও এ বিষয়টি বহুবার উত্থাপিত হয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন সে সময় স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং ইসলাম ধর্মের ভাব-মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্যই আমেরিকা দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে গড়ে তুলেছে।

প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে দ্বিমুখী নীতিগ্রহণ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে নিজেদের অবৈধ লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের অর্থ ও অস্ত্র দেয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকার ভূমিকা এতোটাই জোরালো যে তাদের বিভিন্ন কথা ও কাজে বিষয়টি বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। গবেষক ও সাংবাদিকদের লেখালেখিতেও বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

বুলগেরিয়ার সাংবাদিক মিসেস দিলিনা গিতান্দজিওয়া তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তার এক প্রতিবেদনে ন্যাটো ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র তত্বাবধানে দায়েশ ও আল কায়দার কাছে অস্ত্র পাঠানোর জন্য আমেরিকা, ইসরাইল, সৌদি আরব ও আমিরাতের গোপন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন। কীভাবে দায়েশের কাছে অস্ত্র পাঠানো হয়েছে সে সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ওই লেখিকাকে তার চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই প্রতিবেদনে সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র পাঠানোর সঙ্গে আজারবাইজানের এলহাম আলীয়েভ সরকারের অবিশ্বাস্য ভূমিকা থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। বুলগেরিয়ার এই সাংবাদিক তার প্রতিবেদনে এ বিষয়ে লিখেছেন, "গত তিন বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধকবলিত এলাকায় ৩৫০টি কূটনৈতিক বিমানে করে অস্ত্র পাঠানো হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে আজারবাইজানের কূটনৈতিক বিমান ব্যবহার করা হয়েছে।"  বুলগেরিয়ার এই সাংবাদিক আরো লিখেছেন, "ইসরাইল, আমেরিকা, সৌদি আরব ও আমিরাতের সহযোগিতায় আজারবাইজানের কূটনৈতিক বিমানে এসব অস্ত্র পৌঁছে দেয়া হত।

যাইহোক, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তুরস্ক সরকারও এই দেশগুলোর সহযোগী ছিল যারা কিনা দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে সব রকম সমর্থন যুগিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এমন সময় দায়েশকে সহযোগিতা দেয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটোর সদস্য একটি দেশের ভূমিকার কথা ফাঁস করেছে যখন ইরাক ও সিরিয়ার কর্মকর্তারা বহুবার সেসব দেশে গণহত্যার জন্য তুরস্ক সরকারকে দায়ী করেছেন। #   

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১