আজারবাইজানে ধর্মীয় নেতাদের ওপর আসছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i53767-আজারবাইজানে_ধর্মীয়_নেতাদের_ওপর_আসছে_কঠোর_নিষেধাজ্ঞা
আজারবাইজান সরকার অভ্যন্তরীণ আইনে পরিবর্তন এনে সেদেশের ধর্মীয় নেতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে যাচ্ছে। বিশেষ করে এলহাম আলিয়েভ সরকার ফৌজদারি আইনে পরিবর্তন এনে বিদেশ থেকে যেসব ব্যক্তি ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা করে এসেছেন তাদের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মার্চ ০১, ২০১৮ ১৫:১৮ Asia/Dhaka

আজারবাইজান সরকার অভ্যন্তরীণ আইনে পরিবর্তন এনে সেদেশের ধর্মীয় নেতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে যাচ্ছে। বিশেষ করে এলহাম আলিয়েভ সরকার ফৌজদারি আইনে পরিবর্তন এনে বিদেশ থেকে যেসব ব্যক্তি ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা করে এসেছেন তাদের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ধর্মীয় বিষয়ে বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে আসা কোনো আলেম বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব সরকারের অনুমতি না নিয়ে নামাজে ইমামতি করতে পারবেন না এমনকি কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানও তারা পরিচালনা করতে পারবেন না। আইন অমান্য করলে অভিযুক্ত আলেমকে এক বছরের কারাদণ্ড কিংবা আর্থিক জরিমানা করা হবে। আজারবাইজান বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার নানা কৌশলে সেদেশের মুসলমানদেরকে বিশেষ করে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এ লক্ষ্যে সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে সরকার ফৌজদারি আইনে পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজারবাইজানের প্রখ্যাত ধর্মীয় নেতা আবুল ফাজল বুনিয়াদোভকে এরই মধ্যে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি সম্প্রতি বলেছিলেন, "সরকার ধর্মীয় তৎপরতার বিরুদ্ধে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে আজারবাইজানে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং তা দিয়ে হত্যা পরিকল্পনার মতো মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করছে সরকার।" তিনি বলেন, "এ থেকে বোঝা যায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও জনগণের মধ্যকার ঐক্যে সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।"

যাইহোক, ধর্মীয় নেতাদের কার্যক্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে সরকার ফৌজদারি আইনে যে পরিবর্তন এনেছে তা অনুমোদনের জন্য আগামী ৬ মার্চ পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে। কিন্তু সংসদে সরকারের প্রস্তাব পাস হওয়ার আগেই দেশটির পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী নানা মিথ্যা অভিযোগে বেশ ক'জন ব্যক্তিকে আটক করেছে। বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিক হাজি হাসানলিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজে ইমামতি করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। আদালত তাকে ৩৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে।

আজারবাইজানের সংসদে এলহাম আলিয়েভ সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থাকায় সরকার নিজের চিন্তাভাবনা বা ইচ্ছাগুলোকে সহজে আইনে পরিণত করতে পারছে। আজারবাইজানের সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকে দেশ পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু কয়েকজন সংসদ সদস্যের কাজই হচ্ছে ধর্মবিরোধী তৎপরতা চালানো এবং এ কাজে প্রেসিডেন্ট এলহাম আলিয়েভকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা।

যাইহোক, আজারবাইজানে প্রচুর সংখ্যক শিয়া মুসলমান বাস করে এবং সেদেশে শিয়া মুসলমানদের বিরাট প্রভাব রয়েছে। এ কারণে সরকার আতঙ্কিত হয়ে শিয়াদের বিরুদ্ধে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে রেখেছে। শিয়া মুসলমানদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোই আলীয়েভ সরকারের সাম্প্রতিক এসব তৎপরতার প্রধান উদ্দেশ্য বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১