ইরাকে কেন ইরানের কৌশলগত প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ আজ (রোববার) পাঁচ দিনের এক সফরে ইরাকে রওনা হয়েছেন। তিনি ইরাকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করবেন।
এ সফরে জারিফকে সঙ্গ দিচ্ছেন ইরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য বিষয়ের এক বড় প্রতিনিধিদল। ইরানি প্রতিনিধিদল সফর করবেন ইরাকের রাজধানী বাগদাদ ছাড়াও আরবিল, সোলায়মানিয়া, কারবালা ও নাজাফ শহর। বাগদাদ, সোলায়মানিয়া ও কারবালায় ইরান ও ইরাকের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনটি সেমিনার অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
ইরাকের সঙ্গে ইসলামী ইরানের কৌশলগত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সহযোগিতা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। আর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে এই দুই প্রতিবেশী দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধনও অনেক বেশি জোরদার হয়েছে সাদ্দাম-উত্তর যুগে। দু-দেশের ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোতে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি ইরানি ও ইরাকি সফর করছেন বলে এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে।
মার্কিন সরকার ও তার মিত্ররা ইরাকের নানা দিকের ওপর ইরানের গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকা প্রভাবে বেশ বিচলিত। কিন্তু নানা বাধা ও হয়রানি উপেক্ষা করে ইরাকী নেতৃবৃন্দ ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা ধরে রাখছেন ও তা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ইরাকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দমনে ইরানের ঐতিহাসিক ও কার্যকর প্রধান ভূমিকা শিয়া, সুন্নি ও কুর্দি নির্বিশেষে ইরাকের বেশিরভাগ জনগণ ও সরকারকে গভীর কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে বাধ্য করেছে।
সাদ্দামের শাসনামলেও ইরাকের সংখ্যালঘু শিয়া মুসলমান ও কুর্দিদের সঙ্গে ইরানের গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল। আর আইএস বা দায়েশ দমনে ইরানের কার্যকর ও মোক্ষম সহায়তা দেশটির সুন্নি মুসলমানদের মধ্যেও ইরানকে করেছে ব্যাপক জনপ্রিয়। আর এইসব কারণে ইরান থেকে ইরাক সরকারকে দূরে রাখার মার্কিন চেষ্টা মোটেই হালে পানি পাচ্ছে না।
সম্প্রতি ইরাক সফরে এসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদিকে অনুরোধ করেন। কিন্তু ইরাকি প্রধানমন্ত্রী তার মুখের ওপরই এই অনুরোধ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের নানা স্বার্থের মধ্যে ইরানি গ্যাস ও বিদ্যুত কেনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ইরাকে প্রকৌশলগত নানা সেবাও বিক্রির চেষ্টা করছে যা ইরাকের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার জন্য খুবই জরুরি।
সিরিয়া ও ফিলিস্তিন ইস্যুসহ নানা আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে ইরান ও ইরাকের রয়েছে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সহযোগিতার অভিজ্ঞতা। ইরাকের বিপ্লবীদের হাতে মার খাওয়ার ভয়ে ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা যখন ইরাক সফর করছেন পূর্ব-ঘোষণা ছাড়াই ও গোপনে তখন ইরানি কর্মকর্তারা ইরাক সফর করছেন অস্বাভাবিক কোনো নিরাপত্তা-ব্যবস্থা ছাড়াই।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইরাকি প্রেসিডেন্ট বারহুম সালেহকে বলেছেন, শক্তিশালী ও স্বাধীন ইরাক ইরানের জন্য খুবই জরুরি। আর ইরাককে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা দিতে ইরান সব সময়ই প্রস্তুত বলে ইরানি নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করে আসছেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/১৩
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন